রক্তের প্রয়োজন আছে কি? বড়সড় বিপদের হাত থেকে বাঁচতে উত্তরপ্রদেশের এই ব্লাড ব্যাংকগুলির আপডেট এখনই জেনে নিন

রক্তের অভাবে কোনো রোগীর প্রাণ বাঁচানোর শেষ ভরসা হলো ব্লাড ব্যাংক। কিন্তু সেই রক্তই যদি জীবন বাঁচানোর বদলে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়? উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এমনই এক শিহরণ জাগানো ও ভয়াবহ অনিয়মের ছবি সামনে এল। রাজ্য জুড়ে দফায় দফায় চালানো আকস্মিক পরিদর্শনের পর গুরুতর ত্রুটি ও প্রাণঘাতী অনিয়মের অভিযোগে একলাফে ২৪টি দাতব্য ব্লাড ব্যাংক (Charitable Blood Banks) বা রক্তদান কেন্দ্রের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে দিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FSDA)।

কী কী অনিয়ম ধরা পড়েছে পরিদর্শনে?

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের ৬২টি জেলার মোট ১৫৮টি ব্লাড ব্যাংকে তল্লাশি চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এফএসডিএ-র স্পেশাল ইন্টার-ডিসট্রিক্ট ড্রাগ ইন্সপেকশন টিম ব্লাড ব্যাংকগুলির অন্দরমহল খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখেছে যে—

  • কিছু ব্লাড ব্যাংক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক সংক্রমণ বা ইনফেকশন টেস্ট (Infection Screening) ছাড়াই সরাসরি রোগীদের রক্ত সরবরাহ করছে।

  • অনেক জায়গায় আবার ‘ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা’ (FFP) সম্পূর্ণ দূষিত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে।

  • রক্ত সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত জরুরি কোল্ড চেইন পদ্ধতি এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে।

  • বহু ব্লাড ব্যাংকেই পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত কারিগরি কর্মী বা টেকনিশিয়ানের চরম অভাব রয়েছে।

তদন্তের আওতা ও কঠোর নজরদারি:

রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ব্লাড ব্যাংকগুলি থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এইচআইভি (HIV), হেপাটাইটিস সি (HCV), এবং হেপাটাইটিস বি (HBsAg)-র মতো মারাত্মক রোগের স্ক্রিনিংয়ের জন্য বাধ্যতামূলক ‘এলিসা’ (ELISA) পদ্ধতি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, রক্ত সংরক্ষণের তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না এবং দাতা ও গ্রহীতার রেজিস্টার ঠিকঠাক রাখা হয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।

উৎসবের মরশুমের মাঝেই স্বাস্থ্য পরিষেবার এমন অন্ধকার দিকটি প্রকাশ্যে আসায় গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *