পুলিশের গাড়ি পুড়ল, রণক্ষেত্র সাভার-গাজীপুর! ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে চরম উত্তপ্ত শিল্পাঞ্চল!

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ ও সহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পোশাকশ্রমিকরা। বুধবার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মাঝেই মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে যে, পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর করা হবে এবং শ্রমিকরা তা জানুয়ারি মাসে হাতে পাবেন।
কোথায় কেমন পরিস্থিতি? রণক্ষেত্র সাভার ও গাজীপুর
বুধবার সকাল থেকেই সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার শ্রমিক রাজপথে নেমে আসেন।
-
সাভারে অগ্নিসংযোগ ও হামলা: সাভারের হেমায়েতপুর ও আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা সাভার থানার ওসির গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
-
গাজীপুরে বিক্ষোভ ও ধাওয়া-পালটা ধাওয়া: মঙ্গলবার এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গাজীপুরের বাংলাবাজার, চৌরাস্তা ও নলজানি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার সকালে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের লড়াই শুরু হয়।
-
নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য এলাকা: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন।
ডিসেম্বর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যেই বুধবার সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে নবগঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার জানান, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন যে, নির্ধারিত নতুন মজুরি চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হবে এবং কর্মীরা জানুয়ারি মাসে ওই হারে বেতন পাবেন।
মালিকপক্ষের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ (BGMEA)-র পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা নিশ্চিত করেছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শ্রম আইন বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ এবং গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মুক্তির দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা।
সন্ধ্যা নাগাদ শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করলেও, থমথমে ভাব বজায় রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য টহল জোরদার করা হয়েছে।