ঘুম ভাঙতেই দরজার সামনে শুণ্ড নাড়ছে দু-দুটো হাতি! পুরুলিয়ায় চরম আতঙ্ক, জঙ্গলমুখী করতে এলাহি আয়োজন!

ভোরের আলো ফুটতেই চরম আতঙ্ক ছড়াল পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি রেঞ্জের চুড়কি গ্রামে। পাহাড় ও সংলগ্ন জঙ্গল পেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ল দুটি বিশাল আকারের বুনো হাতি। শান্ত গ্রামে হঠাৎ জোড়া হাতির আগমনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। হাতি দুটিকে গ্রামের রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখে ভয়ে তটস্থ হয়ে পড়েন বাসিন্দারা।
ঘটনার আকস্মিকতায় তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বন দফতরে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাঘমুণ্ডির পাশাপাশি আশপাশের আড়শা, অযোধ্যা, ঝালদা, বলরামপুর এবং মাঠা—মোট ৬টি রেঞ্জের বিশাল বনকর্মী দল যৌথভাবে নজরদারিতে নেমেছে।
মাইকিং করে জারি কড়া সতর্কতা
হাতি দুটির সুরক্ষার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে বনদপ্তর। মাইক নিয়ে টানা প্রচার চালিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ ভুল করেও হাতির কাছাকাছি না যান এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন। কোনো ধরনের উসকানি না দিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা শিবচরণ মাহাতো ও উমেশ সাউ জানান, “সকালে হঠাৎই খবর পাই এলাকায় হাতি ঢুকেছে। শুনেই আমরা ছুটে গিয়ে দেখি বিরাট দুটি হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগে খবর দিই। তবে বনকর্মীরা যেভাবে পুরো এলাকা ঘিরে রেখে মাইকিং ও নজরদারি চালাচ্ছেন, তাতে আমরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত।”
সন্ধ্যার পর জঙ্গলমুখী করার পরিকল্পনা
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতি দুটির ওপর প্রতি মুহূর্তে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দিনভর লোকালয়ে তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ রাখার পর, আলো আঁধারি নামতেই সন্ধ্যার দিকে হাতি দুটিকে নিরাপদে পাহাড় ও গভীর জঙ্গলের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত হাতি দুটি লোকালয় ছেড়ে জঙ্গলে ফিরছে, ততক্ষণ পুরো এলাকায় কড়া পাহারা বজায় রাখছেন বনকর্মীরা।