অলিম্পিক পদক জয়ের পর এবার সোজা আন্তর্জাতিক শ্যুটিং বোর্ডের মসনদে? ভোটের লড়াইয়ে নামলেন মনু ভাকের

অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতের হয়ে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এবার বিশ্ব শ্যুটিং প্রশাসনে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন দেশের তারকা শ্যুটার মনু ভাকের। ইন্টারন্যাশনাল শ্যুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন (ISSF)-এর অ্যাথলিটস কমিটি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নির্বাচনে দড়কাকষিতে লড়তে চলেছেন এই ডবল অলিম্পিক পদকজয়ী। পিস্তল বিভাগে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে, যেখানে দুটি নির্বাচনী পদের জন্য লড়াইয়ে নেমেছেন মোট ১০ জন শক্তিশালী প্রার্থী।
কাতারের দোহায় চলতি বছরের ৩ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ISSF বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ (রাইফেল, পিস্তল ও শটগান)। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার চলাকালীনই অনুষ্ঠিত হবে অ্যাথলিটস কমিটির এই নির্বাচন। শ্যুটিং রেঞ্জের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্ব ক্রীড়ার প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণে মনুর এই প্রার্থী হওয়া দেশের ক্রীড়ামহলে এক বড় খবর।
মনুর ইস্তেহার ও প্রধান পরিকল্পনাগুলো কী কী? নির্বাচনের আগে নিজের সুদূরপ্রসারী ভাবনা ও ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন মনু ভাকের। শ্যুটারদের কল্যাণে তাঁর প্রধান পরিকল্পনাগুলি একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
-
খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার: আন্তর্জাতিক স্তরে দীর্ঘদিন লড়াই করার সুবাদে একজন অ্যাথলিট কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়েন, তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন মনু। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের শুধুমাত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিযোগী হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং খেলার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়া উচিত।
-
মানসিক স্বাস্থ্য ও ‘কুইট জোন’: খেলাধুলার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চান মনু। তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে স্পোর্টস সাইকোলজির মাধ্যমে শ্যুটারদের আরও উন্নত মানসিক সহায়তা প্রদান করা। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতার ভেন্যুগুলিতে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ‘Quiet Zone’ বা নিরিবিলি জোন তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
-
প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার ও প্রচার: বিশ্বজুড়ে শ্যুটিং খেলাটিকে আরও আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় করে তুলতে সোশ্যাল মিডিয়ার আধুনিক প্ল্যাটফর্মগুলিকে ব্যবহার করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন মনু। তাঁর বিশ্বাস, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে এই খেলার প্রসার বহুগুণ বেড়ে যাবে।
-
নিয়মে স্থায়িত্ব ও নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা: প্রতিবার অলিম্পিকের আগে প্রযুক্তিগত বা প্রতিযোগিতার নিয়মে ঘনঘন পরিবর্তন না আনার পক্ষে তিনি। নিয়মে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব থাকলে খেলোয়াড়েরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এছাড়া, অ্যাথলিটদের যে কোনো অভিযোগ বা সমস্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধানের জন্য একটি নিরাপদ ও গোপনীয় প্ল্যাটফর্ম চালুর কথাও বলেছেন তিনি।
-
অবসরের পর আর্থিক সুরক্ষা: শুধু বর্তমান নয়, ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর শ্যুটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে মনুর। অবসরের পর খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং তাঁদের নতুন পেশাগত জীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি।
প্রতিযোগিতার নিয়মকানুন সংস্কার, আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে শ্যুটিংয়ের দুনিয়ায় এক নতুন যুগ নিয়ে আসাই এখন মনু ভাকেরের মূল লক্ষ্য। দোহা থেকে খেলার লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক ময়দানেও মনু জয় ছিনিয়ে আনতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা।