চাকরি আছে, মাইনেও ঢুকছে—তাহলে কেন কাজের প্রতি উৎসাহ হারাচ্ছেন এ দেশের ২৩ শতাংশ কর্মী?

চাকরি করা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করা যে সবসময় এক কথা নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে বর্তমানের কর্পোরেট বিশ্ব। প্রায়শই দেখা যায়, কর্মচারীরা দিব্যি চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন, মাসের শেষে নিয়মমতো বেতনও পাচ্ছেন এবং সময়মতো অফিসও করছেন; অথচ কাজের প্রতি তাদের সেই প্রাণবন্ত উৎসাহ বা উদ্দীপনা আর নেই। তারা কেবল নিজেদের ন্যূনতম দায়িত্বটুকু শেষ করেই দায় সারছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া, একটু বেশি সময় অফিসে থাকা বা নিজের কাজের গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা যেন উধাও। কর্পোরেট জগতে এই অদ্ভুত ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকেই এখন বলা হচ্ছে “নীরব পদত্যাগ” বা “কোয়ায়েট কুইটিং”।

সম্প্রতি প্রকাশিত গ্যালাপের ‘স্টেট অফ দ্য গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চিত্রটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রিপোর্ট বলছে, ভারতে বর্তমানে মাত্র ২৩ শতাংশ কর্মচারী তাদের কর্মক্ষেত্রে পুরোপুরি নিবিষ্ট বা এনগেজেড রয়েছেন। বাকিদের বড় একটা অংশ কেবল চাকরির খাতিরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বেতন, অতিরিক্ত কাজের চাপ, সঠিক মূল্যায়নের অভাব এবং অফিসের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এর জন্য সরাসরি দায়ী। কর্মীরা যখন দেখেন যে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কোনো সঠিক কদর হচ্ছে না, তখন তাঁরা নিজেদের মানসিক শান্তি বজায় রাখতে দায়িত্ব কমানোর পথ বেছে নেন। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কোম্পানির সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *