রাত ১২টার পর ঢুকত বিলাসবহুল গাড়ি, বাজত ঘুঙুরের শব্দ! ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি নিয়ে যা যা শোনা গেল…?

জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও বিলাসবহুল ও রাজকীয় জীবনযাপনে নাকি সাবেক জমিদারদেরও টেক্কা দিতেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন! ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গোৎসবের পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক জালিয়াতির অভিযোগে তিনি এখন পুলিশ লকআপে। আর এই দুর্নীতির তদন্তের গভীরে নামতেই একের পর এক কেঁচো খুঁড়তে সাপের মতো বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

চন্দননগর ও তার আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে প্রি-পুজোর নামে টাকার খেলা—ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের মাঝেই এবার শিরোনামে উঠে এলো তাঁর সিঙ্গুরের গোপন সাম্রাজ্য!

পার্থের ‘অপা’কেও টেক্কা দিল ইন্দ্রনীলের ‘মোহর’

সিঙ্গুর থেকে মাত্র সাড়ে নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছুটিপুর গ্রাম। বাগডাঙা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত এই গ্রামেই রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের এক সুবিশাল বাগানবাড়ি, যার নাম ‘মোহর’। স্থানীয়দের মতে, দুর্নীতির টাকায় দেড় একর জমির ওপর ২০১৬ সাল নাগাদ গড়ে তোলা এই রাজপ্রাসাদটি নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতনের বিতর্কিত ‘অপা’ বাড়িখানিকেও ১০ গোল দেবে!

কেন ইন্দ্রনীলকে বলা হতো ‘দ্বিতীয় শাহজাহান’?

তদন্ত যত এগোচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে পাওয়া যাচ্ছে আরও বিস্ফোরক দাবি। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে গ্রামের একাধিক মানুষ জানিয়েছেন, এলাকার লোক তাঁকে আড়ালে ‘দ্বিতীয় শাহজাহান’ বলতেন।

গ্রামবাসীর দাবি, মাসে অন্তত দু’-তিন বার ওই বাগানবাড়িতে আসতেন ইন্দ্রনীল সেন। আর তিনি এলেই বদলে যেত গোটা পরিবেশ। রাত গভীর হলে আসত একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি। অভিযোগ, সারারাত ধরে চলত দেদার আমোদ-প্রমোদ আর মদের ফোয়ারা।

রাত ১২টার পরেই বাজত ঘুঙুরের শব্দ!

সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবি উঠে এসেছে ইন্দ্রনীলের এই বাগানবাড়ির রাতের পরিবেশ নিয়ে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, রাত ১২টা বাজলেই একে একে গোপন গাড়ি এসে ঢুকত ‘মোহর’-এর প্রধান ফটক দিয়ে। অভিযোগ, সেই গাড়িগুলিতে করে নিয়ে আসা হতো তরুণীদের। আর তার পরেই শুরু হতো জমিদারি কায়দায় মুজরোর আসর! মাঝরাতের নীরবতা চিরে আশেপাশের গ্রাম পর্যন্ত ভেসে আসত নূপুর আর ঘুঙুরের শব্দ।

প্রাক্তন মন্ত্রীর এই ধরনের রঙিন জীবনযাপন ও রহস্যময় কর্মকাণ্ডের কথা জেনেও দীর্ঘদিন ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু ইউনেস্কো প্রতারণাকাণ্ডে ডালপালা মেলতেই ইন্দ্রনীলের সেই রাজকীয় ‘মোহর’-এর অন্ধকার দিক এখন প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই বাগানবাড়ি তৈরিতে দুর্নীতি বা জালিয়াতির কোনো কালো টাকা ব্যবহার হয়েছিল কি না, তাও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *