অভিভাবক পার্থকে নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ প্রবীণরা! রাতারাতি দিল্লি উড়ে এসে অমিত শাহের কাছে এনসিপির নালিশ

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভাঙনের মেঘ! ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (NCP)-র অজিত পাওয়ার শিবিরের অন্দরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, দলের এই তৈরি হওয়া চরম অসন্তোষের জল গড়িয়েছে সুদূর দিল্লি পর্যন্ত। অজিত গোষ্ঠীর প্রবীণ নেতারা তড়িঘড়ি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অজিত-পুত্র পার্থ পাওয়ার এবং তাঁর বিতর্কিত কার্যপদ্ধতি।
নিয়োগ ঘিরে স্বজনপোষণের অভিযোগ ও অসন্তোষ
সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রবীণ এনসিপি নেতারা দলের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের প্রধান অভিযোগ, যুব, ছাত্র, যুবতী এবং মহিলা শাখার রাজ্য সভাপতি নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের সভাপতি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র পরামর্শ করা হয়নি।
দলের প্রবীণ নেতৃত্ব মনে করছেন, সর্বসম্মত ঐক্য ও সমন্বয়ের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ভুল মানুষজন বসছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য সংকেত ভালো নয়। প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়ে এভাবে পার্থ পাওয়ারের একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকে মেনে নিতে পারছেন না দলের প্রতিষ্ঠাতা-স্তরের নেতারা।
উমেশ পাতিল ও জিশান সিদ্দিকীর নিয়োগ নিয়ে আপত্তি
বিশেষ করে উমেশ পাটিলকে দলের প্রধান মুখপাত্র এবং জিশান সিদ্দিকীকে মুম্বাই সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অজিত পাওয়ারের শিবিরে তীব্র গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের না জানিয়ে সুনেত্রা পাওয়ার ও পার্থ পাওয়ার যেভাবে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সমান্তরাল যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, তা নিয়েও বৈঠকে প্রফুল প্যাটেল সহ অন্য প্রবীণ নেতারা সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
কাঠগড়ায় প্রফুল প্যাটেল ও সুনীল টাটকার?
দিল্লির এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে প্রফুল প্যাটেল এবং সুনীল টাটকরের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। দলের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং প্রবীণদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দুই হেভিওয়েট নেতার প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অজিত শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় কেলেঙ্কারী বা ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জোর জল্পনা।