২০ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ! পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মাঝেই মোদীর বড় ধামাকা

মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত ও বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের মাঝেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তিকে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া রিনিউয়েবল এনার্জি সামিট অ্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ১০ থেকে ১১ বছরের মধ্যে ভারত আরও ৫০০ গিগাওয়াট অতিরিক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা অর্জন করতে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই পথ সহজ নয়। তবে বিশ্ব সংকটের মুখে ভারতকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আন্তর্জাতিক সংকটের মাঝেও ভারতের সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “গত ১০ বছরে ভারত যদি সময়মতো বিশ্বমানের নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকাঠামো গড়ে না তুলত, তবে বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার সংকটের ধাক্কায় আমাদের পরিস্থিতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়েও মারাত্মক হতে পারত। তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতের নীতিগত স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আজ অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।”
প্রতিবেদনের ৫টি মূল হাইলাইটস:
-
৫০০ গিগাওয়াটের মহালক্ষ্য: আগামী ১০ থেকে ১১ বছরে দেশে অতিরিক্ত ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত হবে।
-
জীবাশ্ম-বহির্ভূত শক্তিতে মাইলফলক: ইতোমধ্যেই ভারতের জীবাশ্ম-বহির্ভূত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
-
বিপুল বিনিয়োগ: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের রূপরেখা তৈরি হয়েছে।
-
সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন: পরিবেশবান্ধব শক্তি নিশ্চিতে দেশে আগামী দিনে ৫ মিলিয়ন টন গ্রীন বা সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
-
সৌরবিদ্যুতে সরকারি ভবন: পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে দেশের প্রায় ৪৪,০০০ সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন ও সংযুক্তিকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতার দিক থেকে আজ বিশ্বমঞ্চে এক বিশ্বস্ত নাম। ফলে এই পরিবেশবান্ধব শক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কেবল ভারতের নয়, বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই এক নতুন দিক উন্মোচন করবে।