বিরোধী জোটে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি! সোমকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন বৈঠকে এনসিপির হেভিওয়েটরা

রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত হওয়া বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Alliance)-র মেগা সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা এখন তুঙ্গে। এই সমাবেশে সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, আইসার নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআইএম-এর এমএ বেবি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেও, শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত ও এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের মতো হেভিওয়েট নেতাদের ‘সময়ের অভাবে’ মাইক দেওয়া হয়নি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মহারাষ্ট্রের বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ি’ (MVA)-র অন্দরে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলতে শুরু করেছে।

আর এই ঠিক এই পটপরিবর্তনের মাঝেই সোমবার সকালেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন এনসিপির (অজিত পাওয়ার শিবির) একদল শীর্ষ নেতা। এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জেরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের একবার এনসিপির দুই ভগ্ন অংশ—শরদ পাওয়ার ও অজিত পাওয়ার শিবির একজোট হয়ে এনডিএ (NDA)-তে আরও শক্তিশালীভাবে শামিল হওয়ার তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

অমিত শাহের দরবারে অজিত শিবিরের হেভিওয়েটরা: সূত্রের খবর, সোমবার সকালে দিল্লির সরকারি বাসভবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন অজিত পাওয়ার শিবিরের প্রফুল প্যাটেল, সুনীল তটকরে, ধনঞ্জয় মুন্ডে, হাসান মুশরিফ, ছগন ভুজবল, সমীর ভুজবল এবং দিলীপ ওয়াসলে পাটিলদের মতো প্রভাবশালী নেতারা। আজ দুপুরের পরই মুম্বইয়ে দলের কোর কমিটির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও দলের অন্দরে ভাঙন বা মতবিরোধের এই জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এনসিপির জাতীয় মুখপাত্র উমেশ পাটিল। তাঁর দাবি, “সোমবারের এই বৈঠককে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দলের মধ্যে সমন্বয় না থাকার যে কৃত্রিম ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এনসিপি সংযুক্তি ও ক্ষমতার সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অজিত পাওয়ার শিবিরের এই অংশের মূল লক্ষ্য ছিল সুনেত্রা পাওয়ার ও পার্থ পাওয়ারকে একপাশে রেখে দলের বাকি সিনিয়র নেতারা এককাট্টা হয়ে এনসিপির দুই শিবিরকে পুনরায় একত্রিত করে এনডিএ-র সঙ্গে পথ চলার পথ সুগম করা। এর আগে গত সপ্তাহে সুনেত্রা ও পার্থ পাওয়ার অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে এনডিএ জোটে যুক্ত এনসিপির প্রধান মুখ হিসেবে পার্থর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তবে শরদ পাওয়ার শিবির এই প্রস্তাবে আদৌ সম্মতি জানাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

বিজেপির পক্ষ থেকেও মহারাষ্ট্রে শক্তিশালী অব্রাহ্মণ এবং মারাঠা ভোটব্যাংক ধরে রাখতে এনসিপিকে একক শক্তিতে এনডিএ-র অন্দরে সুসংহত রাখতে চাওয়া হচ্ছে। ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে দুটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীপদের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে দুই শিবিরকে এক করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা। প্রয়াত অজিত পাওয়ারের ছেলে তথা রাজ্যসভার সাংসদ পার্থ পাওয়ার নিজে দলের জাতীয় সভাপতি হতে চাওয়ার পাশাপাশি তাঁর মাকে মহারাষ্ট্র সরকারের অর্থমন্ত্রী পদে দেখতে চান বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, সুনীল তটকরে, প্রফুল প্যাটেল ও ছগন ভুজবলের মতো প্রবীণ নেতারা ক্ষমতা সমবণ্টনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন।

দিল্লির বিরোধী মঞ্চের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং অন্যদিকে অমিত শাহের সঙ্গে অজিত শিবিরের এই ম্যারাথন বৈঠক—মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে খুব শীঘ্রই এক বিরাট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিতই মিলছে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *