“বিজেপি জোর করে দোকান বন্ধ করিয়েছে!” না কি সমাবেশের জের? দিল্লিতে আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ নিয়ে ধুন্ধুমার রাজনৈতিক তরজা!

দীপাবলি ও উৎসবের মরশুমে কেনাকাটার চরম ব্যস্ততার মাঝেই বিরাট ক্ষতির মুখে পড়লেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। রবিবার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র (INDIA Alliance) মেগা সমাবেশ ও পদযাত্রার কারণে সৃষ্ট যানজট ও বিশৃঙ্খলায় প্রায় ১০,০০০ থেকে ১১,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা মার খেয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি। উৎসবের ভরা মরশুমে জাতীয় রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিক্রেতা মহলে।
চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি, রাস্তা বন্ধ এবং অস্বাভাবিক ভিড়ের আশঙ্কায় রামলীলা ময়দানের আশেপাশের বড় বড় বাজারগুলির প্রায় ৮০ শতাংশ দোকানপাট রবিবারেও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ, দিল্লির বাজারে ঢোকেননি ৩-৪ লক্ষ ক্রেতা!
সিটিআই (CTI) চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল সোমবার সংবাদসংস্থা ANI-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, দিল্লির ২০ থেকে ২৫টি প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ৩ লক্ষ দোকান রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, রবিবারের ওই সমাবেশের কারণে অন্তত আড়াই লক্ষ (২.৫ লক্ষ) দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
তিনি আরও বলেন, “শুধু খুচরো দোকানদাররাই নন, এই স্থবিরতার ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাইকারি বিক্রেতা, পণ্য সরবরাহকারী, ট্রান্সপোর্টার এবং সাধারণ ক্রেতারা। উত্তর ভারতের পার্শ্ববর্তী রাজ্য ও শহরগুলি থেকে প্রতিদিন যে ৩ থেকে ৪ লক্ষ ব্যবসায়ী ও ক্রেতা কেনাকাটার জন্য দিল্লিতে আসেন, রবিবারের গোলমালের আশঙ্কায় তাঁরা রাজধানীতে পা-ই রাখেননি।”
দোকানে কেনাকাটার আবেদন রাহুলের, পালটা বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
উৎসবের মরশুমে স্থানীয় দোকানদারদের পাশে দাঁড়াতে সমাবেশের ঠিক আগের দিন, শনিবারই বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বাইরে থেকে আসা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লির স্থানীয় দোকানগুলি থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান, যাতে উৎসবের মরশুমে ছোট ব্যবসায়ীরা লাভবান হন।
তবে রবিবার পদযাত্রা চলাকালীন ভিন্ন সুর শোনা যায় রাহুলের গলায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি উল্টে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দাবি করেন—
“আমরা সমর্থকদের কনট প্লেস (Connaught Place) থেকে কেনাকাটা করার আর্জি জানিয়েছিলাম, যাতে এখানকার ব্যবসায়ীদের লাভ হয়। কিন্তু আমি নিজে কনট প্লেসে এসে দেখলাম, বিজেপি জোর করে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছে। সারা দেশের মানুষ আজ সাক্ষী যে কীভাবে বিজেপি ছোট দোকানদারদের ক্ষতি করছে।”
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত দিল্লির রাজনৈতিক ময়দান
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, বিরোধী জোটের অগোছালো সমাবেশ এবং লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের ফলেই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কড়াকড়ি করতে হয়েছে। সমাবেশে সংগৃহীত জনসভার ভিড়ের ছবি (যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI দিয়ে তৈরি বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু) এবং ১০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি— সব মিলিয়ে রামলীলা ময়দানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখন দিল্লির রাজনীতি ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
উৎসবের ভরা মরশুমে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক লোকসান কীভাবে সামাল দেবেন, তা নিয়ে এখন চিন্তার ভাঁজ দিল্লির লক্ষ লক্ষ খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কপালে।