দীপাবলির মুখেই দিল্লিতে ১২,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা সাহা! ‘ইন্ডি’ জোটের সমাবেশে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

দীপাবলির শুভ উৎসবের ঠিক মুখেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের বিশাল সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বরের এই বিরোধী সভার কারণে দিল্লির পাইকারি ও খুচরো বাজারে অভূতপূর্ব আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি।
সংগঠনগুলির দাবি, তীব্র যানজট ও যাতায়াতের কড়াকড়ির কারণে রাজধানীর অন্তত ২৫টি প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলের প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল বা ব্যবসায় বিশাল ধস নেমেছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির অঙ্ক ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেছে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)।
উৎসবের মুখেই কেনাকাটায় বিরাট ধাক্কা
ব্যবসায়ী সংগঠনটির দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, দিল্লির প্রায় ৩ লক্ষ বড় দোকানের মধ্যে আড়াই লক্ষ দোকানই এই সমাবেশের কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, করোল বাগ এবং কাশ্মীরি গেটের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাইকারি ও খুচরো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে কেনাকাটা স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
উৎসবের ঠিক আগের এই রবিবারটিতে কেনাকাটার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। অথচ সেই রবিবারেই সারাদিন দোকানপাট বন্ধ রাখতে হওয়ায় ক্ষোভে ফুটছেন ব্যবসায়ীরা।
সমাবেশ পিছনোর আর্জি জানানো হয়েছিল রাহুল-মমতাকে
চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল সহ একাধিক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাঁরা এই সভার দিনক্ষণ পিছনোর জন্য বারবার আকুল আবেদন জানিয়েছিলেন। এমনকি দীপাবলি মিটে যাওয়ার পর সভাটি করার জন্য সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও দরবার করা হয়েছিল।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়ে ২৪, ২৭, ২৮ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বরের সভার তারিখ বদলে দেওয়ার অথবা রামলীলা ময়দানের বদলে অন্য কোথাও করার আর্জি জানানো হয়। কিন্তু সব অনুরোধ সত্ত্বেও নির্ধারিত ১ নভেম্বরেই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন দিল্লির ব্যবসায়ী মহল।
ব্যবসায়ীদের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে আসরে বিজেপি
ব্যবসায়ীদের এই বিশাল আর্থিক ক্ষতিকে সামনে রেখে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গৌরব বল্লভ বিরোধী জোটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কটাক্ষ করে বলেন, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার বর্ষপূর্তির দিনেই এই সভা আয়োজন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস।
দোকান বন্ধ নিয়ে রাহুল গান্ধীর পাল্টা তোপ
যদিও সমাবেশের আগের দিন শনিবার রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন যে, তিনি দেশজুড়ে আসা সমস্ত কর্মীদের আশপাশের দোকান থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক কর্মীই জানান, তাঁরা কেনাকাটা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
তবে রবিবারের মূল সভা থেকে রাহুল গান্ধী বিজেপির অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে দাবি করেন, “ব্যবসায়ীদের যদি কোনো ক্ষতি হয়ে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী বিজেপি। তারাই জোর করে দোকানপাট বন্ধ করিয়েছিল, সভার কারণে কোনো ব্যবসা মার খায়নি।” সব মিলিয়ে দিল্লির রাজপথের সমাবেশ এখন দেশজুড়ে রাজনীতির প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।