নিজের হাতেই ক্যানসার আক্রান্ত বাবা শেষ করলেন পরম স্নেহের সন্তানকে! আদালতের এক রায়েই স্তব্ধ পুরো গ্রাম

ক্যানসারের মতো মারণ রোগে আক্রান্ত নিজে। দিন গুণছেন মৃত্যুর। কিন্তু তিনি না থাকলে তাঁর ১২ বছরের ছোট্ট ছেলেটার কী হবে? চরম দুর্দশায় পড়তে হবে না তো? এই মারাত্মক আতঙ্ক ও আশঙ্কার বশবর্তী হয়ে নিজের হাতেই নিষ্পাপ ছেলেকে গলায় দড়ি দিয়ে খুন করলেন জন্মদাতা পিতা!

মহারাষ্ট্রের সাতারায় ঘটে যাওয়া এই শিউরে ওঠা ও মর্মান্তিক ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও দায়রা আদালত।

🌾 আখের ক্ষেতে ফেলে রেখে আসা হয় নিষ্পাপ শিশুর মৃতদেহ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির নাম বিজয় আনন্দরাও খাটাল (৩৫)। তিনি সাতারার কোরেগাঁও তালুকের হিভারে গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ১২ বছরের নিহত ছেলের নাম বিক্রম ওরফে প্রণব।

বিজয় দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁর ধারণা তৈরি হয়েছিল, তাঁর মৃত্যুর পর ১২ বছরের বিক্রমকে দেখাশোনার মতো কেউ থাকবে না এবং সে চরম বিপদে পড়বে। এই আশঙ্কাজনক মানসিক অবস্থা থেকেই ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর গবাদি পশু বাঁধার দড়ি দিয়ে নিজের ছেলের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বিজয়। এরপর অপরাধের প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি পার্শ্ববর্তী একটি আখের ক্ষেতে ফেলে দিয়ে চলে আসেন।

🔍 পুলিশের নিখুঁত তদন্ত ও আদালতের ঐতিহাসিক রায়

ঘটনার পর কোরেগাঁও তালুকের ওয়াথার থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সহকারী পুলিশ পরিদর্শক সুশীল ভোঁসলে তদন্তে নেমে ক্যানসার আক্রান্ত বিজয়কে গ্রেফতার করেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করে আদালতে চার্জশিট পেশ করেন।

  • ১৫ জন সাক্ষীর বয়ান: সাতারা জেলা ও দায়রা আদালতে বিচার চলাকালীন সরকার পক্ষ থেকে মোট ১৫ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয়।

  • কঠোর শাস্তি প্রদান: পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক রায়ের ভিত্তিতে আদালত বিজয়কে দোষী সাব্যস্ত করে।

আদালত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০২ ধারায় বিজয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তিন হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের সাজা ভোগ করতে হবে তাঁকে। এ ছাড়া প্রমাণ লোপাটের (২০১ ধারা) অপরাধে তাঁকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *