রাজনীতি ভুলে বিরাট স্বস্তি! ভোট-হিংসায় স্বজনহারাদের পাশে রাজ্য, বড় দায়িত্ব দেওয়া হলো জেলাশাসকদের

রাজ্যে গত ২৫ বছরের নির্বাচনী ও ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারানো পরিবারগুলোর জন্য এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ভোট-সংঘাতের বলি হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অন্তত এক জন সদস্যকে সরকারি চাকরি দিতে এবার জোর কদমে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করল নবান্ন। সরকারের স্পষ্ট বার্তা— এই মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক রঙ বা দলীয় পরিচয় দেখা হবে না। নিহত ব্যক্তি যে রাজনৈতিক দলেরই সমর্থক বা কর্মী হোন না কেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই তাঁর পরিবারের যোগ্য সদস্য চাকরির সুযোগ পাবেন।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, স্বজনহারা পরিবারগুলোকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসন দেওয়ার এই প্রস্তাবটিতে ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে। তবে গত ২৫ বছরের পুরনো বিভিন্ন ঘটনার তথ্য খতিয়ে দেখে সঠিক ও উপযুক্ত পরিবার চিহ্নিত করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। পাশাপাশি এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা বা বিতর্ক তৈরি না হয়, সে কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই আইন দপ্তরের পরামর্শ ও বিশিষ্ট আইনজীবীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে এখন এটি কার্যকর করার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে এবং খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেতে পারে।

জেলাশাসকদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব: সরকারি সিদ্ধান্তটি মাটিতে নামিয়ে আনতে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্য মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জেলাশাসকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। মূলত জনগণনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকের মাঝেই ভোট ও ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব। নিজ নিজ জেলায় বিগত ২৫ বছরে সংঘাতের শিকার হওয়া পরিবারগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সমস্ত জেলাশাসককে তৈরি থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েত, পুরসভা বা বিধানসভা— যে কোনো স্তরের নির্বাচনেই রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, এই মানবিক প্রকল্পের আওতায় আসবে সেই সমস্ত পরিবার। রাজ্য সরকারের এই নিরপেক্ষ ও নজিরবিহীন পদক্ষেপে দীর্ঘ দিন ধরে বিচার ও আশ্রয়ের আশায় থাকা শতাধিক পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *