ভিড় সামলাতে বেনজির সিদ্ধান্ত! ড্রোন, সিসিটিভি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় মোড়া হচ্ছে নৈহাটি

কলকাতার চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নৈহাটির বিখ্যাত বড়মার পুজোয় বেনজির নিরাপত্তার কড়াকড়ি দেখা যেতে চলেছে। কালীপুজোর দিনগুলিতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং বিপুল ভিড় সামাল দিতে আগামী ৬ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সাধারণ ভক্তদের জন্য বড়মার মন্দিরের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি ও ব্যারাকপুর পুলিশ প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুজো সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে পুরসভা, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার অমিত কুমার সিং। পুলিশ কমিশনার জানান, শুধু পুজো চলাকালীনই নয়, প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাজুড়ে বসানো হচ্ছে বহু সিসিটিভি ক্যামেরা, তৈরি হচ্ছে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে আকাশপথে চালানো হবে নিরন্তর নজরদারি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যেই এলাকায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

শিয়ালদহ, হাওড়া, কল্যাণী বা উত্তরবঙ্গ— কোন দিক থেকে কত পুণ্যার্থী ট্রেন বা বাসে চেপে নৈহাটিতে আসবেন, তার আগাম হিসেব পেতে রেলের জিআরপি, আরপিএফ এবং স্টেশন ম্যানেজারদের সঙ্গেও বৈঠকে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

কেন নেওয়া হলো মন্দির বন্ধের সিদ্ধান্ত? গত ১০৩ বছর ধরে নৈহাটির অরবিন্দ রোডে বিশালাকার মৃণ্ময়ী প্রতিমায় বড়মার পুজো হয়ে আসছে। তবে তিন বছর আগে সেখানে কষ্টিপাথরের স্থায়ী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপুজো শুরু হওয়ার পর থেকে সারা বছরই অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে দীপান্বিতা অমাবস্যায় এই ভিড় লাখের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।

প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, একই সময়ে মন্দিরের স্থায়ী কষ্টিপাথরের বিগ্রহ দর্শন, রাস্তার অস্থায়ী প্যাণ্ডেলে বিশালাকার মৃণ্ময়ী রূপের পুজো এবং পুণ্যার্থীদের গঙ্গা থেকে দণ্ডি কাটার ভিড় একসঙ্গে সামলানো ওই অপ্রশস্ত অরবিন্দ রোডে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া ওই একই রাস্তায় আরও বেশ কয়েকটি বড় কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। তাই চোরবাগান অভিজ্ঞতার পর সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ও কোনো রকম ফাঁক না রাখতে পুজো ও তার পরবর্তী কয়েক দিন মন্দিরের দরজা বন্ধ রেখে বাইরে মৃণ্ময়ী প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *