‘বড় চোরটা কবে যাবে?’ অভিষেকের পুলিশ-হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নাম না করে পাল্টা শুভেন্দুর

রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনিক কর্তাদের একাংশকে দেওয়া দলীয় নেতৃত্বের কড়া হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠল তরজা। একদিকে যেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই পাল্টা আক্রমণ ও কটাক্ষে বিদ্ধ করা হয়েছে প্রতিপক্ষকে।

ঠিক কী বলেছিলেন অভিষেক?

দলীয় সূত্রে খবর, শাসকদলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরের নেতাদের সন্তুষ্ট করতে গুটিকয়েক পুলিশ কর্তা সাধারণ দলীয় কর্মীদের মিথ্যে মামলায় জড়াচ্ছেন। কড়া সুরে তিনি জানান, ‘যাঁরা নির্দিষ্ট কারও অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সরকার ক্ষমতায় এলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’ এমনকি অনুনয়-বিনয় করলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জোড়া পাল্টা আক্রমণ!

অভিষেকের এই বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। শুক্রবার সকাল থেকেই সুর চড়ান বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

  • ‘সোডিয়াম-পটাশিয়ামে গণ্ডগোল’: সকালে সোজাসুজি খোঁচা দিয়ে বলা হয়, ‘মনে হচ্ছে ওঁর শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছে। নিউ ইয়র্কে যেতে চাইলে যান, আমরা প্রয়োজনীয় অনুমতি (NOC) দিয়ে দেব।’ পাশাপাশি অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগের মাধ্যম নিয়েও নানা কটাক্ষ উড়ে আসে।

  • বিকেলে বারুইপুরের সভা থেকে তোপ: বিকেলে বারুইপুরের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেককে ‘এঁচোড়ে পাকা’ বলে অভিহিত করা হয়। অভিযোগ তোলা হয়, এলাকা জুড়ে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ধ্বংস করার। বলা হয়, ‘জেলায় জমিদারি চালিয়ে সব গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর মাত্র ৯০ দিনের মধ্যেই সব হিসাব বদলে গিয়েছে।’

‘বড় চোর কবে যাবে?’ প্রশ্নের জবাবে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

বারুইপুরের মঞ্চ থেকেই সাধারণ মানুষের প্রশ্নের উল্লেখ করে দাবি করা হয়, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার প্রক্রিয়া সঠিক নিয়ম ও সময় মেনেই এগোচ্ছে। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে মন্তব্য করা হয়, ‘বড় চোর কবে যাবে—এই প্রশ্ন সবার মনেই রয়েছে। সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে, ঠিক সময়েই সঠিক পদক্ষেপ করা হবে।’

অভিষেকের হুঁশিয়ারি এবং তার পর মুহূর্তেই পাল্টা এই আক্রমণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *