বন দফতরে স্থায়ী চাকরির লোভ দেখিয়ে ১০ লাখের কারচুপি! ঝাড়গ্রামে গভীর রাতে গ্রেফতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা

সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ প্রতারণার গুরুতর অভিযোগে ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার হলেন স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো। বন দফতরে স্থায়ী চাকরি করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বেকার যুবকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, প্রতারিত যুবক টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজস্ব বাসস্থান থেকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ।

১০ লাখের টোপ ও রাজকীয় প্রভাবশালী যোগাযোগ!
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারণার শিকার হওয়া ২৪ বছর বয়সি অভিযোগকারী যুবকের নাম সজল দাস, যিনি ঝাড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা। সজলের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, অজিত মাহাতো নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং রাজ্য সরকারের একাধিক শীর্ষপদস্থ আমলা ও আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা তুলে ধরতেন। সেই প্রভাবশালী ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়েই তিনি বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি সুনিশ্চিত করার লোভ দেখান।

নেতার মিষ্টি কথায় আশ্বস্ত হয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চার দফায় মোট ১০ লক্ষ টাকা অজিত মাহাতোর হাতে তুলে দেন সজল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি, জোড়াজুড়ি করা সত্ত্বেও ফেরত পাওয়া যায়নি খেটে খাওয়া টাকাও।

টাকা ফেরত চাইতেই মিলল খুনের হুমকি, চাওয়া হল আরও ২ লাখ!
অভিযোগকারীর দাবি, বারংবার চাকরি ও টাকা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তাঁর রূপ বদলান। গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে সজলকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং চাপ সৃষ্টি করে আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করা শুরু হয়। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে সুবিচারের আশায় ঝাড়গ্রাম থানার দ্বারস্থ হন ওই ভুক্তভোগী যুবক।

তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন, বাড়ানো হচ্ছে পুলিশি হেফাজতের আবেদন
ঘটনায় সজল দাস একা নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো চক্র?— উঠছে সেই প্রশ্নও। অভিযোগকারীর সন্দেহ, ঠিক একই কায়দায় রাজকীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার আরও একাধিক যুবকের থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ওই শাসকদলের নেতা।

অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কড়া ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। তদন্তকারীদের নজরে এখন মূল কয়েকটি প্রশ্ন—

১০ লক্ষ টাকা আর্থিক লেনদেনের প্রকৃত প্রমাণ ও ডিজিটাল নথি কোথায়?

প্রতারণার এই চক্রে শাসকদলের আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আমলা যুক্ত আছেন কি না?

এলাকার মোট কতজন চাকরিপ্রার্থী এই প্রতারণার জালে ফেঁসেছেন?

আত্মসাৎ করা লাখ লাখ টাকা কোথায় গোপন করা হয়েছে বা কোথায় বিনয়োগ করা হয়েছে?

এই সমস্ত জটিল ও চাঞ্চল্যকর প্রশ্নের সত্যতা যাচাই করতে এবং মূল রহস্য উদঘাটনে ধৃত তৃণমূল নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *