ভূত তাড়ানোর অনুষ্ঠান নিয়ে চরম বিবাদ! বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওঝাকে যা করল দুষ্কৃতীরা, তা কল্পনাতীত

বিহারের ভোজপুর জেলা থেকে এক পৈশাচিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। ঝাড়ফুঁক বা ভূত তাড়ানোর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে গোরখ ডোম নামের এক স্থানীয় ওঝাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। প্রথমে তাঁর গলা কাটা হয় এবং একটি চোখ উপড়ে নেওয়া হয়। এরপর বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে একটি জঙ্গলের ধারের কুয়োয় তাঁর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত গোরখ ডোম ভোজপুর জেলার সাহার থানা এলাকার একওয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর ছেলে চন্দন ডোমের অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে গ্রামেরই মনজিৎ ডোম নামের এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে গোরখ ডোম তাঁকে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন। কিন্তু সেই ঘটনার পরই দুই পক্ষের মধ্যে গোলমাল ও বিবাদ শুরু হয়।

পরিবারের দাবি, গত ২৩ অক্টোবর দুপুর তিনটে নাগাদ মনজিৎ ডোম ও তাঁর স্ত্রী একটি ‘পঞ্চায়েত’ বা সালিশি সভার কথা বলে গোরখ ডোমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি। অবশেষে গত ২৮ অক্টোবর, অর্থাৎ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর বাড়ি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে বারুহি গ্রামের একটি চালকলের নিকটবর্তী জঙ্গলঘেরা কুয়ো থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে এবং অত্যন্ত পৈশাচিক কায়দায় চোখ উপড়ে নিয়ে এই খুন করায় স্থানীয় বাসিন্দারা রীতিমতো স্তম্ভিত। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসল নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য রয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা জানতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *