ভোট চুরি ও SIR ইস্যুতে বিরোধীদের বড় চাল! রাহুল-খাড়গের উপস্থিতিতে দিল্লিতে একই দিনে দুটি সমান্তরাল সংসদ

রাজধানীতে আবারও জমজমাট রাজনৈতিক আকচাআকচি। নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে এক অভূতপূর্ব কৌশল অবলম্বন করতে চলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিল্লিতে বসতে চলেছে এক ‘প্রতীকী সংসদ’, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা হবে প্রতীকী প্রকাশ্য অভিশংসন প্রস্তাব। তবে বিরোধীদের এই আক্রমণের মুখে বসে নেই ক্ষমতাসীন দলও। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বিরোধীদের কর্মসূচি মোকাবিলায় বিজেপি নিজেদের অন্দরে তড়িঘড়ি ধারাবাহিক বৈঠক ডাকতে শুরু করেছে।

খাড়গের বাসভবনে প্রতীকী সংসদ, সভাপতিত্বে মীরা কুমার

বিশেষ রাজনৈতিক এই কৌশল পালনের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ১০ রাজাজি মার্গের বাসভবন।

  • অনুষ্ঠানের সূচনা: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে নিজে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এই প্রতীকী অভিশংসন প্রস্তাবটি পেশ করবেন।

  • সমাপনী ভাষণ: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পূর্বে মূল বক্তব্য রাখবেন।

  • সভাপতিত্ব: লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার পুরো অভিশংসন প্রক্রিয়ার সভাপতিত্ব করবেন।

বিরোধী শিবিরগুলির অভিযোগ, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা তৈরি করে ‘ভোট চুরি’র চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই অভিশংসন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে ইতিমধ্যেই একাধিক শরিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে বসেছিলেন।

রামলীলা ময়দানে মেগা সমাবেশের সোপান

৩০ অক্টোবরের এই প্রতীকী সংসদ চালনার মাত্র দু’দিন পরই, অর্থাৎ আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমত গঠনে এই সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একই দিনে দুটি প্রতীকী সংসদ ও বিজেপির দৌড়ঝাঁপ

উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লিতে কেবল বিরোধীদের প্রতীকী সংসদই নয়, একটি পৃথক নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকেও বিরোধীদের এই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আরও একটি সমান্তরাল প্রতীকী সংসদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

যদিও বিজেপি সরাসরি কোনও নাগরিক ফোরামের কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেনি, তবুও বিরোধীদের একের পর এক আক্রমণাত্মক কর্মসূচি সামাল দিতে পদ্ম শিবিরের প্রস্তুতি চরমে। বৃহস্পতিবারই বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন দলের সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক সারেন। এরপর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আরও একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবারও দলীয় কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক বৈঠক চলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ নভেম্বরের মেগা সমাবেশের আগে রাজধানীর রাজনৈতিক বাতাবরণ উত্তেজনার পারদে ফুটছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *