চিনির দামে আগুন? পেট্রোলের নতুন বিকল্প ‘মিষ্টি জোয়ার’ কীভাবে বাঁচাবে ভারতের অর্থনীতি?

ভারতীয় জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত মোটর যানবাহন আইন ১৯৮৯-এর অধীনে পেট্রোল চালিত গাড়িতে ১০০ শতাংশ ইথানল (E100) ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ ভারতকে সবুজ জ্বালানির দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও, বড় প্রশ্ন উঠছে—এই বিশাল পরিমাণ ইথানল আসবে কোথা থেকে?

কৃষি ও অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, আখ বা খাদ্যশস্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও চিনি অর্থনীতিতে বড় সংকট তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে ‘মিষ্টি জোয়ার’ (Sweet Sorghum) নামের একটি বিশেষ বাজরা প্রজাতি ভারতের ইথানল বিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

আখের ওপর নির্ভরতা এবং চিনি অর্থনীতিতে টান

গত কয়েক বছর ধরে ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের বহুল ব্যবহারের ফলে দেশের চিনি অর্থনীতি মারাত্মক প্রভাবিত হয়েছে। চলতি বছরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিনির দাম কেজি প্রতি ৭০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। যদিও আখের রেকর্ড উৎপাদন হয়েছিল, তবুও চিনি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ২০২২ সাল থেকে সরকার চিনি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়।

ইথানল উৎপাদনের জন্য আখের অতিরিক্ত ব্যবহারে জলসংকটও তীব্র হচ্ছে। উপরন্তু, শস্য-ভিত্তিক ইথানল উৎপাদনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকলে দেশের খাদ্যভাণ্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স’-এ ভারতের স্থান বিবেচনা করলে যথেষ্ট উদ্বেগের।

কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইথানল আমদানি সমাধান নয়?

বিদেশ থেকে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইথানল আমদানি করা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার পরিপন্থী এবং এটি দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে দেশীয় কৃষিভিত্তিক বিকল্প খুঁজতেই হতো।

সমাধানের পথ দেখাচ্ছে ‘মিষ্টি জোয়ার’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজরা-ভিত্তিক ইথানল উৎপাদনই এই সমস্যার সেরা সমাধান হতে পারে, আর সে ক্ষেত্রে ‘মিষ্টি জোয়ার’ সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।

  • কম জলের প্রয়োজন: মিষ্টি জোয়ার চাষে আখের তুলনায় অত্যন্ত কম জল লাগে, যা খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

  • যে কোনো মাটিতে উৎপাদন সম্ভব: পঞ্জাব থেকে শুরু করে তামিলনাড়ু পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামান্য সারের ব্যবহারে ও কম খরচে এটি চাষ করা যায়।

  • খাদ্য নিরাপত্তায় সমস্যা নয়: মিষ্টি জোয়ার মূলত ইথানল ও বায়ো-ফুয়েল তৈরির উপযোগী হওয়ায় খাদ্যশস্যের জোগানে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না।

সঠিক প্রযুক্তি এবং মিষ্টি জোয়ারের মতো ফসলের সঠিক ব্যবহার করা গেলে, ভারত খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রেখে এবং চিনি অর্থনীতিকে ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে বাঁচিয়েই তার ১০০% ইথানল ব্যবহারের স্বপ্ন সফল করতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *