“এরা সময়ে সময়ে জলের আকার নেয়!” গ্রেফতারি নিশ্চিত হতেই ইন্দ্রনীলের অতীত সিপিএম-যোগ টেনে কড়া বার্তা শুভেন্দুর

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে। তৃণমূল সরকারের প্রভাবশালী এই নেতার গ্রেফতারির পরই রাজ্য রাজনীতিতে বইছে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। এই আবহে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক দাবি ও চাঁচাছোলা আক্রমণ শানালেন।

💸 পাস বিক্রির নামে ৫০-৬০ কোটির প্রতারণা!

অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ (Mass Art) নামক সংস্থার মাধ্যমে ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করা হতো। এই কায়দায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ।

💣 “একা তো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে!” — শুভেন্দুর তোপ

ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে স্পষ্ট জানান, তদন্তকারী সংস্থা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এর পেছনে মূল কারিগর যে অন্য কেউ, সে দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি।

শুভেন্দুর বক্তব্য, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদতেই এই সমস্ত কিছু হয়েছে। ও একা তো খায়নি, খাইয়ে খেয়েছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের বহু পুরনো ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা টেনে শুভেন্দু মনে করিয়ে দেন, দু’জনে কীভাবে এক গাড়িতে ঘুরতেন, একসঙ্গে গান গাইতেন। এমনকি কটাক্ষের সুরে বিরোধী দলনেতা বলেন, “দু’জনের শেষ গানটাও আমরা শুনেছি… ‘আমার যাবার সময় হল’।”

🔄 সিপিএম-যোগ ও এনজিওর চাঞ্চল্যকর তথ্য

শুধু তৃণমূলের সময়কালই নয়, ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সিপিএম জমানাতেও শাসকদলের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন এই গায়ক-রাজনীতিবিদ। নাম না করে শুভেন্দু আরও দাবি করেন, এক প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ের এনজিও-র সঙ্গেও ইন্দ্রনীল গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক স্বার্থে দল বদল ও সমীকরণ বদলকে নিশানা করে শুভেন্দু মন্তব্য করেন, “এরা সময়ে সময়ে জলের মতো আকার ধারণ করে।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, বিজেপির দরজা এই ধরনের ব্যক্তিদের জন্য চিরতরে বন্ধ।

রাজ্য রাজনীতিতে ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *