‘পুরুষের চোখেও জল আসে!’ স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি যুদ্ধের হুঙ্কার দিয়ে কী লিখলেন স্বরূপ বিশ্বাস?

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও এবার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। নিজের দুই মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া এবং চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে স্ত্রী জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্টে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাবা হিসেবে নিজের অধিকার এবং সম্মান রক্ষার এই লড়াই তিনি আইনি পথেই চালিয়ে যাবেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ স্বরূপের
দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও তাঁর নীরবতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরূপ। তাঁর দাবি, দুই মেয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ এবং সাক্ষাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাঁকে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও একটি ক্যাফেতে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তাঁকে ছোট মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁকে না জানিয়েই বড় মেয়েকে রাজ্যের বাইরে পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। পোস্টের একটি আবেগঘন অংশে স্বরূপ লেখেন, ‘পুরুষেরও কষ্ট হয়, চোখে জল আসে। আমি চাই না, আমার মেয়েরা বড় হয়ে বাবা-মায়ের বিরোধের ভার নিজেদের কাঁধে বহন করুক।’

জুঁই বিশ্বাসের অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ
এর আগে জুঁই বিশ্বাস একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিচারাধীন বিবাহবিচ্ছেদ ও সন্তানদের হেফাজত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে কুণাল ঘোষের একটি রাজনৈতিক পোস্টে ‘এক নেতার ভ্রাতৃবধূ’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদও করেছিলেন তিনি।

তবে স্বরূপ বিশ্বাসের পালটা প্রশ্ন, দাম্পত্য সম্পর্ক যদি ২০১৯ সাল থেকেই কার্যত শেষ হয়ে থাকে এবং ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন, তবে এতদিন পরে কেন বিবাহবিচ্ছেদের আইনি পদক্ষেপ করা হলো? বিশেষ করে তাঁর গ্রেফতারির ঠিক পরেই এই মামলা দায়ের হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

স্বরূপ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁকে ‘হুলিগান’ বা দুষ্কৃতী হিসেবে প্রতিপন্ন করার যে চেষ্টা চলছে, তিনি তার তীব্র প্রতিবাদ করবেন। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মানজনক ভাষার আশ্রয় না নিয়ে তিনি আইনি পথেই নিজের দুই মেয়ের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখার অধিকার ফিরে পেতে লড়বেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *