না লাড্ডু, না বরফি! হাইওয়েতে বিক্রি হচ্ছে ‘পাহাড়ের মতো’ মিষ্টি, তৈরির রহস্য জানলে তাজ্জব হবেন!

উৎসবের মরশুম এলেই মিষ্টির দোকানে উপচে পড়ে সাধারণ মানুষের ভিড়। কিন্তু রাজস্থানের করৌলির ২৩ নম্বর জাতীয় সড়কের চিত্রটা এখন একটু অন্যরকম। দোকানের অন্দরমহল ছেড়ে এবার হাইওয়ের ধারেই জমে উঠেছে এক ভিন্ন স্বাদের মিষ্টির বাজার। এই দিনগুলিতে পথচারী থেকে গাড়িচালকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এক বিশেষ ধরনের মিষ্টি, যার নাম ‘পঞ্চমেওয়া’। পাহাড়ের আকৃতির সুবিশাল এই মিষ্টি বিক্রি করার জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা প্রায় ৯-১০ জন ব্যবসায়ী হাইওয়ের ধারে ঠেলা সাজিয়ে বসেছেন। আর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষজন সেই চোখধাঁধানো রূপ দেখে গাড়ি থামাতে বাধ্য হচ্ছেন।

কীভাবে তৈরি হয় এই পাহাড়প্রমাণ মিষ্টি?
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে করৌলির হাইওয়েতে বিক্রি হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী পঞ্চমেওয়া মিষ্টি। বিক্রেতা রাজীব সিং জানান, এই মিষ্টি তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়। এতে ব্যবহার করা হয় নারকেলের গুঁড়ো, শুকনো খেজুর, ছোট এলাচ, কাঠবাদাম, কিশমিশ, চেরি, চিনাবাদাম, সুজি এবং চিনি-সহ একাধিক পুষ্টিকর ও সুস্বাদু উপাদান।

রাজীব সিংয়ের মতে, একটি পঞ্চমেওয়া তৈরি করতে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যায়। প্রথাগত দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি এই মিষ্টির মূল ইউএসপি (USP) হল এর পর্বতসম আকার। জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার সময় দূর থেকেই যাত্রীদের নজর কাড়ে এই মেগা মিষ্টি। শুধু দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, এতে থাকা বিভিন্ন ড্রাই ফ্রুটস ও বাদামের সমৃদ্ধ মিশ্রণ স্বাদের পাশাপাশি শারীরিক পুষ্টি জোগাতেও অনন্য।

১০ বছরের পুরোনো অভ্যাস, ২০-৩০ বছরের ঐতিহ্য
সাজানপুর (উত্তরপ্রদেশ) থেকে রাজস্থানের করৌলিতে আসা ব্যবসায়ী রাজীব সিং জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এই মিষ্টি বিক্রি করছেন। তবে এই মিষ্টি তৈরির রেসিপি ও স্বাদের ইতিহাস প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছরের পুরোনো। পরিশ্রমসাধ্য হওয়ায় এর প্রস্তুত প্রণালীতে প্রতিটি ধাপে আলাদা যত্ন নিতে হয়, যা সাধারণ দোকানের মিষ্টির থেকে একে অনেকটাই আলাদা করে তোলে।

আরেক ব্যবসায়ী অখিলেশ সিং জানান, বাজারে রকমারি মিষ্টির অভাব নেই, তবে হাইওয়ের ধারে এমন খোলামেলা পরিবেশে পঞ্চমেওয়া বিক্রির আকর্ষণই আলাদা। দূর-দূরান্তের যাত্রী থেকে স্থানীয় বাসিন্দা—সকলেই কৌতূহলবশত গাড়ি থামিয়ে এই মিষ্টির স্বাদ চেখে দেখছেন। বর্তমানে করৌলির ন্যাশনাল হাইওয়ে-২৩-এর ধারে প্রায় ১০টি ঠেলায় বিক্রি হওয়া এই বিশেষ পঞ্চমেওয়া কেবল রাজস্থানেই নয়, প্রতিদিন সফররত হাজার হাজার মানুষের মন জয় করে নিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *