বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিখ্যাত বামাকালীর পুজো? ছটপুজো নিয়ে সংঘাতের খবর ছড়াতেই চরম তোলপাড়!

বিখ্যাত বামাকালীর পুজো নাকি এবার আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না? ছটপুজো কমিটির আপত্তির কারণে নাকি ভেস্তে গেল সমস্ত প্রস্তুতি? গত কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই নদিয়া ও বর্ধমানসহ সমগ্র রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল তৈরি হয়। কিন্তু বাস্তবে কি সত্যিই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই পুজো? দর্শনার্থীরা কি দেখতে পাবেন না ঐতিহ্যবাহী বামাকালীর সেই বিখ্যাত নাচ?

সব জল্পনা-কল্পনায় জল ঢেলে অবশেষে মুখ খুললেন পুজো কমিটির সভাপতি এবং জানালেন আসল সত্যিটা।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?

নদিয়ার শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী বামাকালীর পুজো অত্যন্ত জনপ্রিয়। মা কালীর সেই বিখ্যাত নাচের দৃশ্য দেখতে এবং দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে প্রতি বছর বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়। সেই শান্তিপুরের আদলেই এবার বর্ধমানের নতুনগঞ্জ ইয়ং ইউনিটের উদ্যোগে আলমগঞ্জের কল্পতরু মাঠে প্রথমবারের জন্য বামাকালী পুজোর বিশাল পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে ৩১ ফুট উঁচু বিশাল প্রতিমা, চোখধাঁধানো লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং ঐতিহ্যবাহী ভাসান নাচের প্রচারও চালানো হচ্ছিল। কিন্তু আচমকাই পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিয়ে জানানো হয়—ছটপুজো কমিটির আপত্তির কারণে এবারের আয়োজন বাতিল করতে হচ্ছে। এই ঘোষণা দেখা মাত্রই বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তুঙ্গে ওঠে।

কী বললেন পুজো কমিটির সভাপতি?

বিষয়টির সত্যতা স্পষ্ট করতে গিয়ে নতুনগঞ্জ ইয়ং ইউনিট পুজো কমিটির সভাপতি সাওন রায় গুজব উ উড়িয়ে বলেন, “এখানে বাঙালি বা বিহারী সংক্রান্ত কোনো জাতিগত ইস্যু নেই। বিষয়টি নিয়ে অহেতুক গুজব রটানো হয়েছে। আমরা দর্শনার্থীদের বের হওয়ার রাস্তা হিসেবে ঘাটের দিকটি রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছটপুজো কমিটির বক্তব্য ছিল, ওই রাস্তায় কেউ এঁটো-কাটা ফেললে জায়গাটি অপবিত্র হতে পারে। আমরা অন্য পথ ব্যবহার করতে রাজি না থাকায় কিছুটা মতবিরোধ হয়েছিল।”

তিনি আরও জানান, ছটপুজো অনুষ্ঠিত হতে এখনও সময় থাকলেও ঘাটের পবিত্রতা বজায় রাখতে তারা ১০ দিন আগে থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে দেয়। কিছু অসাধু লোক এই বিষয়টিতে অহেতুক রাজনীতির রং লাগানোর চেষ্টা করছিল।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমাধানের পথ

পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই বর্ধমান থানার আইসি-র (IC) মধ্যস্থতায় পুলিশ প্রশাসন, বামাকালী পুজো কমিটি এবং ছটপুজো কমিটির কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছায়।

  • নতুন সূচি: আগামী ৮ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সানন্দে অনুষ্ঠিত হবে বামাকালী পুজো।

  • ছটপুজোর প্রস্তুতি: ১২ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছটপুজোর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে।

  • পথ পরিবর্তন: দর্শনার্থীদের জন্য ঢুক পর্যবেক্ষণ করে ‘এন্ট্রি’ ও ‘এক্সিট’ গেটের পথ বদলে দেওয়া হয়েছে।

৩১ ফুটের বিশাল প্রতিমার ভাসান নাচ কি দেখা যাবে?

প্রতিমার ভাসান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য দিয়েছেন সভাপতি সাওন রায়। তিনি জানান, প্যান্ডেলের ভেতরেই তৈরি হবে ৩১ ফুটের বিশাল বামাকালী প্রতিমা। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং গত চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওই বিশাল প্রতিমাটিকে বিসর্জন দেওয়া হবে না। পুজো শেষে প্যান্ডেলেই দমকলের সহায়তায় তা গলিয়ে (dissolve) ফেলা হবে।

তবে ভক্তদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই! পুজোর জন্য একটি ৪ ফুটের আলাদা বামাকালী প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই মূর্তিতেই নিয়ম মেনে পুজো অনুষ্ঠিত হবে এবং ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার বিখ্যাত ‘বামাকালীর নাচ’ সম্পন্ন করে বিসর্জন দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তায় অত্যন্ত আনন্দের সাথেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বর্ধমানের এই প্রথম বছরের বামাকালী পুজো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *