শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নামের মানে কী? জেনেনিন এবার কারা দিল এই নাম?

সমস্ত আশঙ্কা সত্যি করে অবশেষে বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ নিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে। আবহাওয়া দফতর (IMD) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই শক্তিশালী সাইক্লোনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্ণব’ (যে নামটি প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ, যার অর্থ সাগর বা সমুদ্র)। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
কোথায় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর ২০২৬-এর সকালের দিকে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। উপকূল অতিক্রম করার সময় এটি একটি ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ হিসেবে তাণ্ডব চালাতে পারে। এই সময়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিমি, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়ের সম্ভাব্য তাণ্ডবের কথা মাথায় রেখে ওড়িশা সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সমস্ত কৃষি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
অর্ণবের প্রত্যক্ষ প্রভাবে অন্ধ্র-ওড়িশার পাশাপাশি কাঁপবে বাংলাও। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে:
-
২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার): পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।
-
২৮ অক্টোবর (বুধবার): দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ৪০-৫০ কিমি বেগে হাওয়া বইবে।
-
২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার): প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
-
৩০ অক্টোবর (শুক্রবার): কিছু জেলার দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
চলতি সপ্তাহের এই প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ঝড়ের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।