চোরবাগানের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে লালবাজারে তুমুল তোলপাড়! কার গাফিলতিতে গেল ১৯ প্রাণ? কাঠগড়ায় পুলিশ

চোরবাগানের পুজোর মণ্ডপে ১৯ দর্শনার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: নিজেদের কর্মীদেরই স্ক্যানারে রাখল লালবাজার, মাঠে নামছে মানবাধিকার কমিশন

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রথম সপ্তমীর আলো ঝলমলে সাঁঝবেলায় আনন্দের মুহূর্ত মুহূর্তে বদলে গিয়েছিল বিভীষিকায়। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে প্রবল জনস্রোতের চাপে পদপিষ্ট হয়ে করুণ পরিণতি ঘটে ১৯ জন দর্শনার্থীর। এই অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর এবার সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভিড় সামলাতে ঠিক কোথায় গাফিলতি এবং ফাঁক থেকে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে নিজেদের কর্মীদেরই এবার আতশকাচের নিচে রেখেছে লালবাজার।

লালবাজার সূত্রের খবর, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের ‘ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট’ বা ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে কোন কোন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মী মোতায়েন ছিলেন, তার একটি সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সোমবার থেকেই সেই ডিউটি চার্ট ধরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মীদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে তদন্তকারী টিম।

কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই বিষয়ে স্পষ্ট জানান, “সেদিন কোন কোন পুলিশ আধিকারিক ঠিক কোথায় ডিউটিতে ছিলেন, তার সবিস্তার রিপোর্ট লালবাজারে পৌঁছেছে। এবার তাঁদের সরাসরি মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হবে।”

তদন্তে মূলত যে প্রশ্নগুলি উঠে আসছে তা হলো—মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান পথের দায়িত্বে কারা ছিলেন? দর্শনার্থীদের আচমকা অতিরিক্ত চাপের মুখে পুলিশি নিরাপত্তা স্ট্র্যাটেজি পুরোপুরি ব্যর্থ হলো কেন? এবং কর্তব্যরত কোনো আধিকারিক বা কর্মীর দায়িত্বে কি চরম অবহেলা ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই লালবাজারে শুরু হচ্ছে জোর তৎপরতা।

স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের: এদিকে উৎসবের মরশুমে ১৯টি তরতাজা প্রাণ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে ইতিমধ্যেই তারা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আগামী সপ্তাহেই রাজ্য মানবাধিকার কমিশনে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিশেষ শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের তলব করা হতে পারে কমিশনে। সেই সাথে ঘটনার মূল কারণ পর্যালোচনা করতে এবং স্বজনহারা পরিবারগুলির বক্তব্য শুনতে মৃতদের পরিবারের সাথেও কথা বলতে পারেন মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা।

আনন্দের সপ্তমীতে ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনা পুরো তিলোত্তমাকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। প্রশাসনিক অবহেলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় ঠিক কার—তা খুঁজে বের করতে এখন সমানভাবে তৎপর পুলিশ প্রশাসন ও মানবাধিকার কমিশন।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *