ভয় দেখালেও মাথা নোয়াবে না, প্রলোভনেও বিকোবে না! পুরভোটে প্রার্থী নিয়ে আলিমুদ্দিনের কড়া হুঁশিয়ারি!

দুর্গাপুজো কাটতেই শহর কলকাতায় বাজতে শুরু করেছে পুরভোটের বাদ্যি। আগামী নভেম্বরেই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পুর নির্বাচন। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি নিজেদের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে, অন্যদিকে বসে নেই বামেরাও। একের পর এক বৈঠক সেরে প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে আলিমুদ্দিন। চলতি মাসের একেবারে শেষলগ্নে জেলা বামফ্রন্টের বৈঠকে এই তালিকায় চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে চলেছে।
তবে এবারের কলকাতা পুরনিগমের প্রার্থী নির্বাচনে সম্পূর্ণ নতুন ও কড়া বার্তা দিয়েছে সিপিআই (এম)। দলের স্পষ্ট অবস্থান— কোনও প্রলোভনে বিক্রি হয়ে যাবেন কিংবা বিজেপির হুমকি দেখে মাথা নোয়াবেন, এমন ‘মেরুদণ্ডহীন’ প্রার্থীদের এবার স্থান দেওয়া হবে না। জয় পাওয়ার পর দলবদল বা চাপের মুখে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করবে না এমন চরম নীতিবান, স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদেরই মূলত ময়দানে নামাতে চাইছে বাম নেতৃত্ব।
ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ২০৯, শরিকি ফর্মুলা কী?কলকাতা পুরনিগমের সাম্প্রতিক ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯-এ। ফলে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির (সিপিআই, আরএসপি, ফরোয়ার্ড ব্লক) মধ্যে আসন বাড়ানোর দাবি উঠেছে। তবে এক্ষেত্রে বিধানসভা নির্বাচনের ফর্মুলা প্রয়োগ করছে সিপিএম। শরিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আসন দাবি করার পেছনে তাঁদের সংগঠন, ভোট ব্যাংক এবং সমর্থনের জোরালো তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি, বৃহত্তর বাম ঐক্যের স্বার্থে এবারও সিপিআই (এমএল)-কেও কিছু আসন ছাড়া হতে পারে।
তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার জমজমাট ককটেল: এবারের প্রার্থী তালিকায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বয়সের সমীকরণে। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে চলেছে সিপিএম। একদিকে যেমন বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলর বা অভিজ্ঞ মুখ থাকছেন, তেমনই ২২ থেকে ২৬ বছর বয়সি একঝাঁক তরুণ-তুর্কি মুখকে কর্পোরেশনের ভোটে নামিয়ে চমক দিতে চলেছে আলিমুদ্দিন। সংঘাত এড়াতে প্রয়োজনবোধে শরিকি আসলেও শরিক দলের প্রতীকে প্রার্থী দিতে পারে তারা। ভোটের দিন ঘোষণার আগেই নিচুতলার সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এখন থেকেই অল-আউট ঝাঁপাচ্ছে বাম শিবির।