২০২৯-েই মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন! কাকদ্বীপের সভা থেকে মমতাকে তীব্র নিশানা করে আর কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক ও জনসভা থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। কাকদ্বীপ স্টেডিয়ামের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বিতরণ, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সুর চড়ান তিনি। পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে নতুন প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন।

অন্নপূর্ণা যোজনা ও মহিলাদের আর্থিক সহায়তা: অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৩ লক্ষ ৬ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গেছে। মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমার মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩৮ হাজার হাসপাতালে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

সুন্দরবনের উন্নয়নে বরাদ্দ ও ক্ষোভ: সুন্দরবনকে উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সুন্দরবনের উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও খরচ হয়েছিল মাত্র ২০০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকার ৮০ শতাংশই নয়ছয় বা চুরি হয়েছিল।

এর বিপরীতে বর্তমান সরকার মাত্র আট মাসের বাজেটে সুন্দরবনের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানান তিনি। প্রথম দফায় ইতিমধ্যেই ৫৫৩টি কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা এবং সুন্দরবনকে একটি মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও তুলে ধরেন তিনি।

মুড়িগঙ্গা সেতু ও যোগাযোগের উন্নয়ন: মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু নির্মাণ নিয়ে আগের সরকারের ভূমিকা তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সেতু নিয়ে অতীতে বহু মিথ্যাচার করা হয়েছে। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, ২০২৯ সালের মধ্যেই মুড়িগঙ্গা সেতুর উদ্বোধন করা হবে। সুন্দরবনের দ্বীপগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া দু’বছর পর কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

কর্মসংস্থান ও শিক্ষার প্রসার: বেকারত্ব ঘোচাতে কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, নতুন জব কার্ড তৈরির পাশাপাশি পুরনো জব কার্ডধারীরাও এক বছরে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন, যার জন্য দৈনিক মজুরি ধার্য করা হয়েছে ৩০০ টাকা। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ১ লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বাল্যবিবাহ রোধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের পর মেয়েদের কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আগামী ৩ বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

আবাস যোজনা ও আইনি পদক্ষেপ: আবাস যোজনার টাকা বন্টন নিয়েও আগের সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড়ান তিনি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এমনকি গোয়ালঘর দেখিয়েও টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি যোগ্য উপভোক্তাকে পাকা বাড়ি পাইয়ে দেবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের নতুন করে এফআইআর করার পরামর্শ দিয়ে রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রাখার বার্তা দেন তিনি। সব মিলিয়ে কাকদ্বীপের এই সভা থেকে একাধিক রাজনৈতিক ও জনমুখী ঘোষণায় উত্তাপ ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *