“সরকারকে প্রশ্ন করা কি অপরাধ?” দিল্লি পুলিশের নোটিশ ও আদালতের ধাক্কার পর গর্জে উঠলেন নেহা বোরা!

দিল্লি পুলিশের নির্দেশ এবং আদালতের খারিজের পর এবার আরতি বা পিছু হঠতে নারাজ সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-র সভাপতি নেহা বোরা। পুলিশি শান্তিবন্ড বা ‘শান্তি-মুচলেকা’য় সই করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করে নেহা প্রশ্ন তোলেন— যেখানে সরকারকে প্রশ্ন তোলাই অপরাধ, সেখানে কোন শান্তি বজায় রাখার কথা বলছে প্রশাসন?

ঘটনার সূত্রপাত: ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ১৬ অক্টোবরের একটি ঘটনা। ওই দিন দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (CJP)-এর তরফ থেকে ‘তেরঙা যাত্রা’র আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশ নিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন নেহা বোরা। দিনভর একাধিক থানা ও বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর গভীর রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরদিনই, ১৭ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ নোটিশ পাঠানো হয় নেহাকে। নোটিশে নির্দেশ দেওয়া হয়, তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে ১০,০০০ টাকা জমা দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে শান্ত ভঙ্গ হতে পারে এমন কোনো কাজে লিপ্ত হবেন না বলে একটি ‘শান্তি-মুচলেকা’ বা বন্ড জমা দিতে হবে।

আদালতের তোপ ও নেহার লড়াই: পুলিশের এই নোটিশের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইসা সভাপতি। তবে শুক্রবার আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। অর্থাৎ আইনিভাবে দিল্লি পুলিশের নোটিশটি বহাল থাকে। আদালতের এই ধাক্কার পরেই শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নেহা।

তিনি সাফ জানান, এমন কোনো কাজ তিনি করেননি যার জন্য তাঁকে শান্তিবন্ডে সই করতে হবে। নেহার কথায়, “যে কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সরকারকে প্রশ্ন করা এবং সরকারের ভুল নীতির বিরোধিতা করা। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা কোনোভাবেই শান্তি নষ্টের কাজ হতে পারে না।”

যেখানে স্বাধীন মতপ্রকাশকেই অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেখানে শান্তি-মুচলেকায় সই করার প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি করেন তিনি। আইনি চাপ থাকা সত্ত্বেও নেহা বোরার এই অবস্থান রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলন মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *