ইছামতির মেলায় দেদার বিক্রি হচ্ছিল বরফ-মিষ্টি! প্রশাসনের হানিতে উদ্ধার ২০০ কেজি বিষাক্ত বরফ!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের তেঁতুলিয়া এলাকায় ইছামতি নদীর তীরবর্তী মাঠে শারদোৎসবের আনন্দ উদযাপনের উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেলা ঘিরে স্থানীয় মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তবে উৎসবের আমেজের মাঝেই মেলায় বিক্রিত বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করে স্থানীয় প্রশাসন।

খাবারের গুণমান নিয়ে তীব্র অভিযোগ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপরই রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, স্থানীয় স্বরূপনগর থানা এবং ব্লক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মেলা প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ ও আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। এই মেগা অভিযানে ফুড সেফটি অফিসার এবং পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকেরা বিভিন্ন খাবারের দোকান ও পানীয়ের স্টল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন।

অভিযান চলাকালীন তদন্তকারী দল মেলা চত্বর থেকে প্রায় ২০০ কেজি অস্বাস্থ্যকর ও রাসায়নিক মিশ্রিত বরফ উদ্ধার করে। প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই বরফগুলি মানুষের পানীয় জল বা শরবত তৈরির জন্য একেবারেই উপযোগী ছিল না। মানবদেহের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর এই বরফ দিয়ে মেলায় আগত সাধারণ মানুষকে ঠাণ্ডা পানীয় ও শরবত পরিবেশন করা হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করে প্রশাসন এবং উদ্ধার করা ওই বিপুল পরিমাণ বরফ তৎক্ষণাৎ বাজেয়াপ্ত করে সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হয়।

শুধু বরফই নয়, প্রশাসনের এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযানে মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত রাখা বেশ কিছু লোভনীয় মিষ্টির মানও পরীক্ষা করা হয়। সেই মিষ্টিগুলিতে মানবদেহের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক কৃত্রিম রাসায়নিক রঙের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা। খাদ্যে এই ধরনের নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে জনসাধারনের শরীরে বড় ধরনের রোগ বা ফুড পয়জনিংয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না। মেলার বাকি দিনগুলিতে যাতে এই ধরনের বেআইনি ও ক্ষতিকর খাদ্যসামগ্রী বিক্রি না করা হয়, সে বিষয়ে সমস্ত দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *