ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নিয়ে উধাও হওয়া আর চলবে না! স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপে বড় পরিবর্তন হাসপাতালে!

দুর্গাপুজোর মরশুমে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। আগামী বছর থেকে পুজোয় ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘ ছুটি নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না। হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা সচল রাখতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক রস্টার ডিউটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

সম্প্রতি চোরবাগানের একটি দুর্গাপুজোয় ভয়ংকর পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। সেই সময় আহতদের তড়িঘড়ি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে বেশ কিছু অব্যবস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। এর পরেই আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য ভবন। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকেই হাসপাতালের পরিষেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

অন্যদিকে, পুজোর দিনগুলিতে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও চরম অব্যবস্থার ছবি সামনে আসে। এলাকার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো আচমকা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে বেহাল সাফাই ব্যবস্থা দেখতে পান। তিনি তখনই সরাসরি ফোন করে বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানান। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি পরিষেবার প্রতি প্রতিটি স্বাস্থ্যকর্মীকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন তিনি।

এই চরম অব্যবস্থার জেরে দেবেন মাহাতো হাসপাতালের এমএসভিপি-সহ মোট আটজন কর্মীকে শোকজ করা হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে বৈঠকে বসে পুজোর ছুটির নিয়মে বড় পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, এবারও পুজোর সময় রস্টার ডিউটি চালুর নিয়ম ছিল, তবে আগামী বছর থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অন্যান্য কর্মীদের জন্যও রস্টার ব্যবস্থা বহাল থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে আগাম ছুটি নিয়ে উৎসবের দিনে হাসপাতাল ফাঁকা রাখার প্রবণতা বন্ধ করতেই স্বাস্থ্য দফতরের এই কঠোর অবস্থান। এখন দেখার, এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে আগামী দিনে পুজোর সময় সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা কতটা উন্নত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *