“সন্ত্রাসবাদীদের সেনাবাহিনীর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দেয় পাকিস্তান!” রাষ্ট্রসংঘে ইসলামাবাদকে আয়না দেখাল ভারত

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ফের মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াল ভারত ও পাকিস্তান। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ইস্যু এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে আন্তর্জাতিক মঞ্চ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হলে, তার অত্যন্ত কড়া ও তথ্যভিত্তিক জবাব দেয় ভারত। বিশেষ করে, যে দেশ সেনার চেয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বেশি গুরুত্ব দেয়, তাদের কাছ থেকে ভারত কোনও উপদেশ শুনতে চায় না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।
সন্ত্রাসবাদ ও কারগিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কড়া আক্রমণ
গত মাসে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের বিষয়ভিত্তিক বিতর্কের অংশ হিসেবে শুক্রবার ভোরে নিউইয়র্কে সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সরব হন।
এর পাল্টা জবাবে ভারতের প্রথম সচিব ভাবিকা মঙ্গলানন্দন পাকিস্তানের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা সেই দেশের কাছ থেকে কোনও জ্ঞান বা অভিযোগ শুনতে চাই না, যারা নিজেদের সেনাবাহিনীর চেয়েও সন্ত্রাসবাদীদের বেশি গুরুত্ব দেয়।” তিনি আরও তীব্র আক্রমণ শাণিত করে বলেন, পাকিস্তান এমন একটি দেশ যেখানে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হয় এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আধিকারিকেরা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।
এরপরই প্রায় তিন দশক আগের কারগিল যুদ্ধের একটি চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ টেনে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অবাক করে দেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, কারগিল যুদ্ধে নিহত বহু পাকিস্তানি সেনার মৃতদেহ ইসলামাবাদ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করেছিল। কারণ, তারা কখনই মানতে চায়নি যে তাদের অত সংখ্যক সেনা মারা গিয়েছিলে। অথচ এর বিপরীতে ভারত সমস্ত মানবিকতা বজায় রেখে নিহত পাকিস্তানি সৈন্যদেরও সৈনিকের মর্যাদায় এবং ধর্মীয় আচার মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল।
পাকিস্তানের সংখ্যালঘু নির্যাতন ও পিওকে নিয়ে তোপ
আলোচনার অন্য একটি পর্বে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের দূরবস্থা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বিষয়টি জোরালোভাবে তোলে ভারত। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেন যে, ধর্মান্তকরণ কেবল তখনই বৈধ যখন তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় হয়। কিন্তু ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ইসলাম ধর্মে রূপান্তর করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যার ফলে পাকিস্তান ক্রমশ সংখ্যালঘু শূন্য রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।
ভারতের প্রতিনিধি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে দেশ নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে জ্ঞান দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তাদের নেই।”
এর আগে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তার জবাবে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টের প্রসঙ্গ টানে ভারত। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে সংখ্যালঘু নারীদের উপর নির্যাতন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) চরম সংকট, অশান্তি ও অধিকারহীনতায় জর্জরিত। সেই গুরুতর অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতেই পাকিস্তান বরাবর আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ টেনে আনে।