৩৯৯ টাকার পাসের লোভেই কি ১৯ জনের মৃত্যু? চোরবাগানের ঘটনায় সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

এবারের দুর্গোৎসবের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে বদলে দিয়েছে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা। পুলিশি তদন্তে এই ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আর এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরেই মণ্ডপের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তে কোন কোন গাফিলতি সামনে আসছে?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এবং তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, আয়োজকদের চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। প্রধানত যে বিষয়গুলি তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে:
-
টাকা দিয়ে পাস বিক্রি: অভিযোগ উঠেছে, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৩৯৯ টাকার ডিজিটাল পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে লাইনে না দাঁড়িয়ে দ্রুত মণ্ডপে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি ভিআইপি পাস বেআইনিভাবে নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
ভিআইপি করিডরের চাপ: এমনিতেই সরু রাস্তা, তার ওপর ভিআইপি পাসের জন্য আলাদা করিডর তৈরি করায় সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গা মারাত্মকভাবে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছিল।
-
হঠাৎ বৃষ্টি ও বিশৃঙ্খলা: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা।
-
সজল ঘোষের মন্তব্য: বিজেপি বিধায়ক তথা পুজো উদ্যোক্তা সজল ঘোষ জানিয়েছেন, এই ঘটনা থেকে অন্যান্য পুজো কমিটিগুলোর শিক্ষা নেওয়া উচিত। তবে এর পাশাপাশি বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীর নিরাপত্তার নজির টেনেই বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন যে কোনও ব্যবস্থাই ১০০ শতাংশ নিশ্ছিদ্র বা সুরক্ষিত নয়।
-
শুভেন্দুর বার্তা: দুর্ঘটনার পর ভিআইপি পাস ও এন্ট্রি ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর মণ্ডপে এ ধরনের পাসের মাধ্যমে প্রবেশ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে এবং মণ্ডপের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সাত জন পুজো উদ্যোক্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিপুল মানুষের জনস্রোত সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় ফাঁক ছিল এবং এই মৃত্যুর দায় কার—তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।