ট্রেনে রিলস বা গান বাজালেই কড়া শাস্তি! দিতে হবে জরিমানা, হতে পারে ৬ মাসের জেলও

ভারতবাসীর যাতায়াতের প্রধান ও অন্যতম ভরসাযোগ্য মাধ্যম হলো ভারতীয় রেল। সাশ্রয়ী ভাড়ায় নিরাপদ ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনের কামরায় সহযাত্রীদের একাংশের আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। অনেকেই ট্রেনের মধ্যে হেডফোন ব্যবহার না করে লাউড স্পিকারে গান শোনেন, উচ্চস্বরে রিলস বা সিনেমা দেখেন কিংবা গভীর রাতেও ফোনে চিৎকার করে কথা বলেন। এর ফলে পাশের যাত্রীদের বিশ্রাম বা ঘুমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। সাধারণ যাত্রীদের এই নিত্যদিনের ভোগান্তি দূর করতেই এবার কঠোর পদক্ষেপ করল ভারতীয় রেল।

ট্রেনের কামরা বা স্টেশন চত্বরে সহযাত্রীদের বিরক্ত করে মোবাইলে জোরে অডিও বাজানো, রিলস দেখা বা উচ্চস্বরে কথা বলার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রেলের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই নিয়ম অমান্য করলে অপরাধের মাত্রা বুঝে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

কী বলছে রেলের নতুন নিয়ম? রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রেন কিংবা স্টেশন চত্বরে কোনোভাবেই অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে মোবাইলে জোরে গান, সিনেমা, ভিডিও বা রিলস চালানো যাবে না। একই সঙ্গে ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এই সমস্ত ক্ষেত্রে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মূলত টিকিট পরীক্ষক (TTE) বা রেলের অনুমোদিত আধিকারিকরাই জরিমানা আদায় করবেন। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে এবং পরিস্থিতি গুরুতর হলে ট্রেন থেকেও নামিয়ে দেওয়া হতে পারে।

তবে কেউ যদি বারবার সতর্ক করার পরেও এই নিয়ম অমান্য করতেই থাকেন, সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তখন জরিমানার পরিমাণ বেড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত জেলের সাজাও ভোগ করতে হতে পারে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জোনে, বিশেষ করে ‘সার্দান রেল’-এর পক্ষ থেকে একাধিক ডিভিশনে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী স্টেশনগুলিতে লাগাতার অ্যানাউন্সমেন্ট এবং সচেতনতামূলক পোস্টার সাঁটিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করার কাজ শুরু হয়েছে। রেলের এই কড়া পদক্ষেপে আগামী দিনে ট্রেনের কামরায় অহেতুক বিশৃঙ্খলা ও শব্দদূষণ কমবে বলেই মনে করছেন নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *