পাঞ্জাবে আগুন! প্রকাশ্যে গুলি করে খুন মাদকবিরোধী প্রচারককে, অভিযুক্তের বাড়িতে বুলডোজার চালাতেই রণক্ষেত্র মানসা

মাদকবিরোধী সমাজকর্মী তথা প্রচারক পারভিন্দর সিং ঝোটার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পাঞ্জাবের মানসা জেলা। প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত ঝোটার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এই পৈশাচিক ঘটনার সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো করা হয়েছে। চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে মানসা প্রশাসন ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত অশ্বিনী কুমারের বেআইনি সম্পত্তি এবং বাসভবনে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, বিক্ষুব্ধ জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযুক্তের মালিকানাধীন দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে গোটা এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে হয়ে রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত তথা এক স্থানীয় ওষুধের দোকানের মালিক অশ্বিনী কুমারকে রাজস্থানের সালাসার থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও ঝোটা হত্যার বিচার ও বিভিন্ন দাবির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত মানসায় বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে মানসা শহরে মঙ্গলবার পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হয় এবং বুধবারও সেই অচলাবস্থা ও ধর্মঘট অব্যাহত থাকে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করতে মানসায় ছুটে যাচ্ছেন। লুধিয়ানার সাংসদ অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং এবং বিধায়ক সুখপাল সিং খায়রাও মৃত ঝোটার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নিহত প্রচারকের পক্ষে চলা এই ন্যায়বিচার আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়া বেশ কিছু বিরোধী দলের নেতাকে পুলিশ প্রশাসন কড়া হাতে দমন করার চেষ্টা করেছে। প্রখ্যাত অকালি দলীয় নেতা তথা বিধায়ক মনপ্রীত সিং আয়ালিকে মানসায় যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেয় এবং পরে আটক করে। পাশাপাশি, হোশিয়ারপুর ও গুরুদাসপুরে ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ সংগঠনের কিছু নেতাকে গৃহবন্দী করে রাখার খবরও পাওয়া গেছে। তাঁরা মূলত ঝোটার খুনির ফাঁসি ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হতে চেয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার সকালে, যখন অভিযুক্ত ওষুধের দোকানের মালিক অশ্বিনী কুমার অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুব কাছ থেকে পারভিন্দর সিং ঝোটাকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই পাঞ্জাবের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসন যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে শোকে ও ক্ষোভে ফেটে পড়া পরিবার তাদের নায্য বিচারের দাবিতে অটল রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *