নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর হুঙ্কার! যন্তর মন্তরে গেট টপকে বিক্ষোভ দেখানোর জেরে CJP নেতাদের ৫ দিনের জেল হেফাজত

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজধানীর যন্তর মন্তরে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party বা CJP) নেতৃত্ব সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন। এই ঘটনায় কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে দিল্লির একটি আদালত CJP-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে ৫ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে তাঁদের অপর এক সঙ্গী অজিঙ্ক শিন্ডেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। ৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং আগামী এক বছর জনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কঠোর মুচলেকায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বুধবার সকালে মন্দির মার্গের স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে ধৃতদের হাজির করা হলে দীর্ঘ শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে নাটকীয়ভাবে ভেতরে ঢুকে পড়ার অপরাধে দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা সতর্কতামূলক গ্রেফতার দেখায়। যদিও CJP-র লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্সের প্রধান রত্না সিং পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে অভিযোগ করেন যে, মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত ধৃত নেতাদের সঙ্গে কোনো আইনজীবীকে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ প্রশাসন। এদিনের শুনানিতে পুলিশের প্রধান যুক্তি ছিল যে, অভিযুক্ত নেতারা কেবল জনশৃঙ্খলা ভঙ্গই করেননি, বরং এর আগের বন্ডের শর্তও সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছেন। পুলিশের দাবি, রীতিমতো সামাজিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ডাক দিয়ে সাধারণ মানুষকে এই বেআইনি বিক্ষোভে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ওই নেতারা। পুলিশের এই কড়া সওয়ালের ভিত্তিতেই আদালত সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের কারাবাসের নির্দেশ দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর বিতর্ককে ঘিরে। এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে লাগাতার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল CJP। কিন্তু সেই বিক্ষোভের ঠিক একদিন আগেই আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত ধর্না ও বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের যেকোনো ধরনের জমায়েতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মঙ্গলবার সাতসকালে বিস্ফোরক কান্ড ঘটান সৌরভ ও আশুতোষরা। কড়া পুলিশি প্রহরা ও ব্যারিকেড সম্পূর্ণ এড়িয়ে জেডিইউ-এর জাতীয় কার্যালয়ের কাছের একটি তালাবন্ধ গেট টপকে সটান যন্তর মন্তরের ভেতরে ঢুকে পড়েন তাঁরা এবং তাঁদের কয়েকজন অনুগত স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের হাতে উড়ছিল জাতীয় পতাকা। মুখে স্লোগান উঠছিল— ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে’। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তড়িঘড়ি ছুটে আসেন মোতায়েন থাকা বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। বিক্ষোভকারীদের আটকাতে গেলে শুরু হয় তীব্র ধস্তাধস্তি। শেষমেশ জোরপূর্বক তাঁদের আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।

গোটা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্বের সঙ্গে শেয়ার করেছেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গেট টপকানোর ওই সাহসী বিক্ষোভকারীদের তিনি অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতীকীভাবে ‘তিরঙ্গা হাতে আরশোলা’ (Cockroaches with the Tiranga) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেন্দ্রের মদতে প্রশাসনের তরফে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলের তকমা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি চরম চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন দিপকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মন্তব্যে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সরকারের কোনো বিজ্ঞপ্তি বা আদেশ দিয়ে সত্যের প্রতিরোধ ও মানুষের প্রতিবাদকে কখনও পাকাপাকিভাবে বাতিল বা মোছা যায় না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে, এবং আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *