পুজোয় ক’দিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক? লম্বা ছুটির আগেই সেরে নিন জরুরি কাজ!

অক্টোবর মাস মানেই আনন্দের জোয়ার, উৎসবের আমেজ এবং লম্বা ছুটির হাতছানি। তবে অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাঙ্ক একটানা বহু দিন বন্ধ না থাকলেও দুর্গাপুজোর কদিন সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক, শাখা ব্যাঙ্ক এবং কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টগুলিতে গ্রাহক পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। ফলে উৎসবের এই কদিন জরুরি প্রয়োজনে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেই ছুটির তালিকা দেখে ঘর থেকে বেরোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং রাজ্য সরকারের প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী পুজোর কদিন ব্যাঙ্কগুলির কাজের দিন ও ছুটির সুনির্দিষ্ট হিসাব রয়েছে।

পুজোর কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি কিংবা জরুরি আর্থিক লেনদেনের কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে ব্যাঙ্কের ছুটির দিনক্ষণ নিয়ে। উৎসবের আবহে রাজ্যে ব্যাঙ্কের শাখাগুলি কতদিন বন্ধ থাকবে এবং কবে থেকে আবার স্বাভাবিক পরিষেবা শুরু হবে, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে কৌতূহল থাকে তুঙ্গে। রাজ্য সরকারের অন্যান্য দফতরের মতো ব্যাঙ্কে একটানা ১০-১২ দিন ছুটি থাকে না। কারণ, এনআই অ্যাক্ট (Negotiable Instruments Act) এবং আরবিআই-এর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই ব্যাঙ্কিং পরিষেবার শাখাগুলি পরিচালিত হয়।

যেহেতু এই বছর ছুটির মরশুমের মূল দিনগুলির পাশাপাশি সাপ্তাহিক ছুটিও মিলে গিয়েছে, তাই টানা বেশ কিছুদিন ব্যাঙ্কে গেলে পরিষেবা পাওয়া যাবে না। বাংলায় ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকছে মূলত সপ্তমী থেকে। তবে সপ্তমী রবিবার হওয়ায় মূল ছুটির গণনা অষ্টমী থেকেই শুরু হবে। আগামী ১৯ অক্টোবর অর্থাৎ সোমবার মহাঅষ্টমী উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ থাকবে। এরপর ২০ অক্টোবর অর্থাৎ মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষেও আরবিআই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। আর ২১ অক্টোবর অর্থাৎ বুধবার বিজয়া দশমী বা দশেরার পবিত্র দিনে রাজ্যজুড়ে সমস্ত ব্যাংক পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

সবমিলিয়ে রবিবার থেকে বুধবার— এই চার দিন রাজ্যের সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখাগুলিতে সরাসরি গ্রাহক পরিষেবা বন্ধ থাকছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এর ঠিক আগে ১৬ অক্টোবর অর্থাৎ মহাষষ্ঠী এবং ১৭ অক্টোবর অর্থাৎ তৃতীয় শনিবার ব্যাঙ্ক খোলা থাকায় যাঁদের জরুরি আর্থিক কাজ আছে, তাঁরা এই নির্দিষ্ট দিনগুলির মধ্যেই তা সেরে নিতে পারেন। তাছাড়া ব্যাঙ্কগুলির ফিজিক্যাল ব্রাঞ্চ বন্ধ থাকলেও এটিএম পরিষেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, ইউপিআই এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবা আগের মতোই স্বাভাবিক ও সচল থাকবে। উৎসবের এই দিনগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষকে কোনো রকম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য ডিজিটাল মাধ্যমগুলিই ভরসা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *