‘পদ ছাড়ুন, নয়তো…’! সিইসি-র বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের মারাত্মক ফাঁদ পাতলেন শশী তারুর

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিতর্কের আগুন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলে সরব হলেন জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, জ্ঞানেশ কুমার নিজে থেকে ইস্তফা না দিলে বিরোধীদের উচিত সংবিধান মেনে তাঁর বিরুদ্ধে ‘ইমপিচমেন্ট’ বা অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে আসা।

মঙ্গলবার এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শশী তারুর বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম অন্যায্যভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে এই বিতর্কিত প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। বেআইনিভাবে যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, দ্রুত তা ফেরানো এবং যে সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই কাজ চালানো হচ্ছে, তা পুনর্মূল্যায়ন বা পর্যালোচনা করা দরকার।

২০২৩ সালের বিতর্কিত আইন ও ইমপিচমেন্টের দাওয়াই

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে তারুর ২০২৩ সালে কেন্দ্র সরকারের আনা একটি বিতর্কিত আইনের কথা মনে করিয়ে দেন। ওই আইনের ১৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছিল— সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বর্তমান বা প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কিংবা অন্যান্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে কোনও দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা আদালতে চালানো যাবে না। তারুরের অভিযোগ, সংসদে বিরোধীদের ব্যাপক বহিষ্কারের সুযোগ নিয়ে তড়িঘড়ি এই আইন পাস করিয়েছিল শাসকদল।

তবে এই সুরক্ষাকবচের ফাঁক তুলে ধরেও বিকল্প পথ বাতলে দিয়েছেন তারুর। ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যেভাবে নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে পদচ্যুত করা যায়, ঠিক একই উপায়ে এবং একই কারণে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে অপসারণের বিধান রয়েছে। ফলে পদত্যাগ না করলে এই পথেই এগোনো উচিত বলে মনে করছেন তিনি।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আপত্তি

তারুরের মূল অভিযোগ, এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার কাজটি করা হচ্ছে মারাত্মক তাড়াহুড়ো করে। কিন্তু কোনো নাগরিকের নাম ভুলবশত বাদ পড়লে তা সংশোধনের জন্য আপিল করার গতি অত্যন্ত ধীর। এমনকি বাদ পড়া ভোটারকেই প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে যে তিনি ভারতীয় নাগরিক এবং ভোট দেওয়ার যোগ্য— যা নাগরিক অধিকারের মৌলিক পরিপন্থী।

বর্তমানে বিরোধীরা একজোট হয়ে দাবি তুলছেন যে, এসআইআর সম্পূর্ণ স্থগিত করে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যবহৃত বিতর্কিত ‘ফর্ম ৬’ ও ‘ফর্ম ৭’ সংক্রান্ত নিয়মাবলী বাতিল করা হোক এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হোক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *