এআই-এর ভয়ংকর রূপ! শরীরের মাপ বদলে আপত্তিকর ছবি ভাইরাল হওয়ায় ফুঁসে উঠলেন জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির জয়জয়কার বিশ্বজুড়ে। কিন্তু এর ভালো দিকের পাশাপাশি বিনোদন জগতে এর এক অত্যন্ত কুৎসিত ও ভয়ংকর দিক ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে। কিছুদিন আগে দক্ষিণী ছবি ‘দেবরা: পার্ট ১’ এর জনপ্রিয় গান ‘চুত্তমাল্লে’তে অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের একটি বিকৃত এআই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। আসল গানে না থাকা আপত্তিকর ও যৌন উদ্দীপক দৃশ্যে অভিনেত্রীকে যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, তার তীব্র প্রতিবাদ করে একে অপরাধমূলক অপব্যবহার বলে দাগিয়েছিলেন জাহ্নবী। জুনিয়র এনটিআর থেকে শুরু করে চিরঞ্জীবী ও খুশবু সুন্দরও এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এবার প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে মুখ খুললেন জনপ্রিয় দক্ষিণী ও বলিউড অভিনেত্রী শ্রিয়া শরণ।
নিজের ছবি বিকৃত হওয়া নিয়ে যা বললেন শ্রিয়া:
নিজেই একাধিকবার এআই কারসাজি ও ছবি বিকৃতির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রিয়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, বিষয়টি মাঝেমধ্যে এমন অদ্ভুত জায়গায় পৌঁছয় যে মনিটরে নিজেকে দেখে নিজেরই বিশ্বাস হয় না। তাঁর কথায়, স্তনের আকার কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা পরনের পোশাকটাই ডিজিটাল উপায়ে গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের বিকৃতি মেনে নেওয়া অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
প্রযুক্তির ভালো এবং খারাপ দিক তুলে ধরে শ্রিয়া বলেন, এআই যেমন মানুষের কাজ সহজ করে দিচ্ছে, তেমনই এর এক বিপজ্জনক দিকও রয়েছে। প্রতিটি নতুন প্রযুক্তির সঙ্গেই এই ঝুঁকি জড়িয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে আমাদের এর মোকাবিলা করা শেখা জরুরি।
দুই দশকের সিনেমার দুনিয়া ও বর্তমানের তফাত:
২০০১ সালে ‘ইষ্টম’ ছবির মাধ্যমে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন শ্রিয়া। সুদীর্ঘ এই দুই দশকে শুটিং সেটের মেজাজ কতটা বদলে গেছে, সে কথাও শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর স্মৃতির পাতা হাতড়ে উঠে আসে পুরনো দিনের কথা। তিনি জানান, তাঁর প্রথম তিনটে ছবির শুটিংয়ে কোনো মেকআপ ভ্যান পর্যন্ত ছিল না। সেটের সবাই মিলে গাছের ছায়ায় বসে একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতেন। সহশিল্পী বা পরিচালকদের সঙ্গে গান, বই কিংবা জীবন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দারুণ আড্ডা হতো। ক্যাসেট প্লেয়ারে সবাই মিলে একসঙ্গে গান শোনার সেই দিনগুলোর সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে তিনি জানান, আজ সবার কানে ইয়ারফোন গোঁজা থাকে, পাশে বসে থাকা মানুষটা কী শুনছে তা জানারও উপায় নেই।
ইতিবাচক পরিবর্তনের আশাবাদী শ্রিয়া:
প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সেটের বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিক তুলে ধরেছেন ‘দৃশ্যম’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়েছে। ক্যামেরা কে সামনে কতজন নারী আছেন তার চেয়েও বড় কথা, ক্যামেরার পেছনের গুরুদায়িত্ব এখন নারীরা সামলাচ্ছেন। গল্প নির্বাচন থেকে কোন প্রোজেক্টে টাকা ঢালা হবে, সেই সিদ্ধান্তগুলো এখন নারীরাই নিচ্ছেন। শুধুমাত্র খাতায়-কলমে নারীপ্রধান গল্প বানিয়ে ফেললেই হয় না, তার নেপথ্যের কারিগররাও যদি পুরুষ হন তবে তাকে সত্যিকারের নারীপ্রধান সিনেমা বলা যায় না। তবে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যদিও পথ চলা এখনও অনেকটা বাকি, এমনটাই মত শ্রিয়ার।