চালক সঙ্কটে ধুঁকছে কলকাতা মেট্রো! ঘাটতি মেটাতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রেল বোর্ড, বড় নির্দেশ জারি!

মেট্রো নেটওয়ার্কের ব্যাপক সম্প্রসারণ, পরিষেবার সময় বৃদ্ধি এবং ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বা যাতায়াতের ব্যবধান কমানোর ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে প্রকট হয়েছে কর্মী সঙ্কট। বিশেষ করে কলকাতা মেট্রোয় চালক বা মোটরম্যানের তীব্র ঘাটতি মেটাতে এবার সরাসরি আসরে নামল রেল বোর্ড। মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই সমস্যার স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান খুঁজতে পূর্ব রেল এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড।
রেল বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে দেশের রানিং স্টাফদের বর্তমান সংখ্যা ও চাহিদার পরিসংখ্যান নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই কলকাতা মেট্রোর বেহাল চালক সঙ্কটের চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মেট্রোয় ৩৯৬টি অনুমোদিত মোটরম্যান পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ২৮২ জন কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি, ৩১টি অনুমোদিত শান্টার পদের মধ্যে কাজ চালাচ্ছেন মাত্র ২৪ জন।
পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতা মেট্রোয় বর্তমানে যে ৩০৬ জন রানিং স্টাফ কর্মরত আছেন, তার মধ্যে ১৬৪ জন পূর্ব রেল এবং ৮০ জন দক্ষিণ-পূর্ব রেল থেকে ঋণভিত্তিক বা ডেপুটেশনের ব্যবস্থা (Deputation)-র মাধ্যমে কাজ করছেন। অর্থাৎ, একা এই দুই জোন থেকেই মোট ২৪৪ জন কর্মী মেট্রো পরিষেবা সচল রাখতে সাহায্য করছেন।
রেল বোর্ডের নির্দেশ ও বিকল্প পরিকল্পনা:
মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে গত ২৪ আগস্ট রেল বোর্ডকে চিঠি দিয়ে অন্য রেল জোন থেকে দ্রুত উপযুক্ত রানিং স্টাফ নেওয়ার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সেই চিঠির প্রেক্ষিতেই রেল বোর্ড জানিয়েছে, কলকাতা মেট্রোর জন্য অতিরিক্ত ১২১ জন রানিং স্টাফের যে প্রয়োজন রয়েছে, তা পূর্ব রেল ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সম্মিলিত রানিং স্টাফের মাত্র ০.৬ শতাংশ। তাই এই সামান্য চাহিদা মেটাতে দুই রেল জোনকে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, দেশের অন্যান্য রেল জোনগুলি থেকেও কর্মী নিয়োগের জন্য আগ্রহপত্র বা ‘অপশন’ চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বোর্ড। শুধু তাই নয়, স্থায়ী পদে আউটসোর্সিং বা চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং এতদিন ধরে স্থায়ী দপ্তরের নানা কাজে আটকে থাকা রানিং স্টাফদের পুনরায় ট্রেন পরিচালনার মূল কাজে ফিরিয়ে আনার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছে রেল মন্ত্রক।