মাধুরীর বিয়েতে আমন্ত্রিত ছিলেন শাহরুখ-সলমন! কিন্তু বর মহাশয় কাউকেই চিনতেন না কেন? জানলে চমকে যাবেন!

বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতকে চেনেন না, এমন মানুষ গোটা ভারতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নব্বইয়ের দশকে তাঁর এক চিলতে হাসিতে বুঁদ থাকত আট থেকে আশি। অন্যদিকে শাহরুখ খান কিংবা সলমন খান—যাঁদের এক ঝলক দেখার জন্য অনুরাগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার ধারে অপেক্ষা করেন। কিন্তু যদি শোনেন, খোদ মাধুরীর বিয়ের আসরে এই সুপারস্টাররা পাত্তাই পাননি? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ডঃ শ্রীরাম নেনে ফাঁস করেছেন তাঁর জীবনের সবথেকে মজার সেই সিক্রেট।
মাধুরীকে চিনতেনই না ডঃ নেনে!
সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার-পরিচালক ফারহা খানের একটি ভ্লগে এসে নিজেদের প্রেম ও বিয়ের অজানা সব গল্প শেয়ার করেছেন মাধুরী এবং তাঁর স্বামী ডঃ শ্রীরাম নেনে। সেখানেই ডঃ নেনে জানান, বিয়ের আগে মাধুরীর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা বা স্টারডম সম্পর্কে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণাই ছিল না। এর মূল কারণ ছিল তাঁর মার্কিন মুলুকে বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তিনি স্টিভেন স্পিলবার্গ, জর্জ লুকাস আর হলিউডের ‘স্টার ওয়ার্স’ দেখে বড় হয়েছেন। হিন্দি সিনেমা তিনি প্রায় দেখেইতেন না! তাই মাধুরী যে ভারতের এত বড় একজন সুপারস্টার, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। মাত্র তিন মাস প্রেম করার পরেই মাধুরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি।
রিসেপশনের সেই মজার ঘটনা:
বিয়ের পর ভারতে একটি জমকালো রিসেপশনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বসেছিল চাঁদের হাট। কিন্তু ডঃ নেনে তো বলিউড তারকাদের কাউকেই চিনতেন না! অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান বা সলমন খানের মতো তারকারা হাজির থাকলেও তাঁদের কাউকেই চিনতে পারেননি তিনি। সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ডঃ নেনে জানান, “আমার অবস্থা তখন অনেকটা স্কুলের নতুন ছাত্রের মতো ছিল! আমি শুধু সবার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছিলাম, আসলে কে কে এসেছিলেন তার কিছুই বুঝিনি।”
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গোটা অনুষ্ঠানে তিনি মাত্র একজনকেই চিনতে পেরেছিলেন—তিনি হলেন অমিতাভ বচ্চন! কারণ ছোটবেলায় তিনি ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ সিনেমাটি দেখেছিলেন।
আমেরিকার সাধারণ জীবন ও পরিচয়:
বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে আমেরিকার ডেনভারে সংসার পাতেন মাধুরী। সেখানকার প্রতিবেশীরা ঘুণাক্ষরেও জানতেন না যে তাঁদের পাশের বাড়ির গৃহবধূ আসলে ভারতের কত বড় একজন সুপারস্টার! আর পাঁচজন সাধারণ মায়ের মতোই তিনি নিজের দুই ছেলে অরিন ও রায়ানকে রোজ নিজে স্কুলে ছাড়তে যেতেন।
কিন্তু একদিন এক আকস্মিক ঘটনায় সব বদলে যায়। মাধুরী জানান, তাঁদের বাড়ির চারপাশে একটি অচেনা গাড়ি বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল। তা দেখে ভয় পেয়ে এক প্রতিবেশী পুলিশ ডাকতে উদ্যত হন। শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে মাধুরী তাঁকে জানান যে তিনি একজন সেলিব্রিটি এবং ওই গাড়িটি আসলে তাঁকে একঝলক দেখার জন্যই ঘুরছে! এরপর ২০১১ সালে সপরিবারে পাকাপাকিভাবে ভারতে ফিরে আসেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডের অন্দরমহলের সঙ্গে ডঃ নেনেরও বেশ ভালো পরিচয় তৈরি হয়েছে। তবে শুরুর দিকের এই মজার গল্পগুলো প্রমাণ করে যে তাঁদের সম্পর্কটা কোনো স্টারডমের ওপর তৈরি হয়নি, বরং তা গড়ে উঠেছিল নিখাদ ভালোবাসা ও সহজ সরল বিশ্বাসের ওপর।