২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ফুরোনোর আগেই যন্তর-মন্তরে চরম নাটক! ফের পুলিশের জালে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র শীর্ষ নেতারা!

রাজধানীর বুকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লি পুলিশের কড়া নির্দেশিকা জারির পরেও থামছে না সংঘাত। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে মঙ্গলবার সকালে দিল্লির যন্তর-মন্তর (Jantar Mantar) চত্বর থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দুই শীর্ষনেতা—মুখ্যপাত্র সৌরভ দাস (Saurav Das) এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে (Ashutosh Ranka) ফের আটক করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের সাফাই, সমস্ত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও জোর করে যন্তর-মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন ওই নেতারা।

প্রসঙ্গত, সোমবারই দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, এখন থেকে যন্তর-মন্তরে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। আন্দোলনের জন্য বুরারি ময়দান, রামলীলা ময়দান এবং সিবিডি ময়দানের মতো বিকল্প তিনটি স্থান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে সিজেপি নেতৃত্ব কড়া অবস্থান নেয়। তাদের তরফে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্না ও আন্দোলনের বিকল্প জায়গার স্পষ্ট রূপরেখা জানানোর দাবি জানানো হয়েছিল। তবে সেই নির্ধারিত সময়সীমা সম্পূর্ণ পেরোনোর আগেই সিজেপি নেতারা কেন আচমকা যন্তর-মন্তরে হাজির হলেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, এর আগে গত ১০ অক্টোবর যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর ঠিক আগে দিল্লি বিমানবন্দরেই আটক করা হয়েছিল অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের আওতায় বিমান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রবিবার একজন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর তাঁদের শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, সেই মুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল— আগামী এক বছর তাঁরা শান্তিভঙ্গকারী কোনো রকম কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। পুলিশের সেই শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আজ ফের তাঁদের যন্তর-মন্তর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজধানীর বুকে প্রতিবাদ আন্দোলন ঘিরে সিজেপি ও দিল্লি পুলিশের এই ইঁদুর-বিড়াল খেলা আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *