বন্ধ হোস্টেল সাফ! খাট, গিজার থেকে শুরু করে বাথরুমের কল পর্যন্ত খুলে নিয়ে পালাল চোরেরা, ধৃত ৪

উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। শহরের বিধৌলি এলাকায় একটি দীর্ঘকাল বন্ধ থাকা হোস্টেল থেকে দিনের আলোতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। অবাক করার বিষয় হলো, চোরেরা কেবল খাট ও আলমারিই নয়, বরং বাথরুমের কল, গিজার, দরজা-জানালা এবং শাওয়ার পর্যন্ত উপড়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
যেভাবে ঘটল এই চাঞ্চল্যকর কান্ড
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেরাদুনের বিধৌলি এলাকায় আইনজীবী রজত দুয়া নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি হোস্টেল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। হোস্টেলটির তত্ত্বাবধায়কও ছুটিতে থাকায় বাড়িটি পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গত ৪ থেকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে একদল দুষ্কৃতী অত্যন্ত সুকৌশলে সেখানে হানা দেয়। তারা দিনের আলোতে গাড়িতে করে হোস্টেলে এসে ধীরে ধীরে সমস্ত আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরাতে শুরু করে।
ভুয়া চুক্তি দেখিয়ে প্রতিবেশীদের ধোঁকা
চুরি করার সময় এলাকার কোনো প্রতিবেশী যাতে সন্দেহ না করেন, তার জন্য এক অভিনব ফন্দি এঁটেছিল অভিযুক্তরা। প্রতিবেশীরা যখন তাদের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন চোরেরা নিজেদের ওই হোস্টেলের ‘নতুন মালিক’ বলে দাবি করে। শুধু তাই নয়, নিজেদের দাবিকে পোক্ত করতে তারা একটি জাল ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তিপত্রও প্রতিবেশীদের দেখায়। সেই ভুয়া কাগজপত্র দেখে প্রতিবেশীরাও কোনো সন্দেহ করেননি এবং অভিযুক্তরা বেশ কয়েকদিন ধরে নির্বিঘ্নে তাদের অপারেশন চালিয়ে যায়।
ফাঁকা হয়ে গেল ৩০ রুমের হোস্টেল
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৯ অক্টোবর, যখন হোস্টেলের আসল মালিক রজত দুয়া সেখানে এসে পৌঁছান। তালাবন্ধ হোস্টেলের ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি হতবাক হয়ে যান। ৩০ রুমের ওই হোস্টেলের ভেতরে তিলমাত্র কিছু অবশিষ্ট ছিল না।
তদন্তে জানা গেছে, চোরেরা হোস্টেল থেকে সর্বমোট:
-
৭০টি খাট
-
৩২টি গিজার
-
৩৫টি আলমারি
-
২টি ডিপ ফ্রিজার
-
৬টি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার
-
২০টি দরজা, জানালার ভেন্টিলেটর এবং বাথরুমের সমস্ত কল ও শাওয়ার চুরি করে নিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে দেরাদুন সিটি পুলিশ রবিবার একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ সুপার শেখর সুয়াল জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত চার অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই পাকড়াও করা হয়েছে এবং বাকি পলাতকদের ধরতে জোরদার তল্লাশি চলছে। দিনের আলোতে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।