হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি আর মেজাজ খিটখিটে হওয়া সাধারণ ক্লান্তি নয়! ভারতের প্রতি ৫ জন নারীর ১ জন ভুগছেন কোন গোপন বিপদে?

হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া, মুখে অতিরিক্ত ব্রণ কিংবা অকারণ মেজাজ খিটখিটে হওয়াকে অনেকেই দৈনন্দিন কাজের চাপ বা সাধারণ হরমোনের ওঠা-পড়া ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ লক্ষণগুলির আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে এক নীরব ও বিপজ্জনক স্বাস্থ্যসংকট। চিকিৎসা সংক্রান্ত সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে প্রতি ৫ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ১ জন পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা ‘পিসিওএস’ (PCOS)-এ আক্রান্ত। কিন্তু সচেতনতার অভাবে সিংহভাগ নারীই প্রাথমিক অবস্থায় এই ব্যাধি চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হন, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় বন্ধ্যাত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় জটিলতায়।
পিসিওএস (PCOS) ঠিক কী?
এটি মূলত মহিলাদের প্রজনন অঙ্গ ও এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের একটি জটিল হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতা। সাধারণত মহিলাদের শরীরে পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের ক্ষরণ খুব সামান্য পরিমাণে হয়। কিন্তু পিসিওএস-এ আক্রান্ত হলে অ্যান্ড্রোজেনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট সিস্ট তৈরি হয় এবং ডিম্বস্ফোটন বা ওভিউলেশন অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
অবহেলা না করার মতো প্রাথমিক ৫টি বিপদ সংকেত:
-
১. অনিয়মিত বা অতিরিক্ত দীর্ঘ ঋতুস্রাব: পিরিয়ডস সময়মতো না হওয়া, টানা কয়েক মাস বন্ধ থাকা কিংবা শুরু হলে অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা দেখা দেওয়া পিসিওএস-এর প্রধান ও প্রথম লক্ষণ।
-
২. আকস্মিক ওজন বৃদ্ধি ও মেদ ঝরানোর ব্যর্থতা: শরীরচর্চা বা ডায়েট মেনে চলার পরেও পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং কোনোভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে না আসা।
-
৩. মুখে অতিরিক্ত ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বক: যৌবন পেরোনোর পরও থুতনি, গাল বা পিঠে হঠাৎ তীব্র ব্রণ বা একনের উপদ্রব হওয়া।
-
৪. হিরসুটিজম বা অবাঞ্ছিত লোম: অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের বৃদ্ধির ফলে চিবুক, ঠোঁটের ওপর, বুক বা পেটে পুরুষদের মতো অতিরিক্ত ও শক্ত লোম গজিয়ে ওঠা।
-
৫. চুল পাতলা হওয়া ও তীব্র মেজাজের ওঠাপড়া: মাথার মাঝখানের চুল দ্রুত পাতলা হয়ে যাওয়া (মেল প্যাটার্ন হেয়ার লস) এবং অকারণ বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা তীব্র মুড সুইংস।
সতর্ক না হলে কী বিপদ ঘটতে পারে?
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, সঠিক সময়ে পিসিওএস ধরা না পড়লে এবং উপযুক্ত জীবনধারা গ্রহণ না করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও গর্ভধারণে স্থায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি ও ময়দা এড়িয়ে পুষ্টিকর ডায়েট এবং গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোন নিয়ন্ত্রণই এই রোগকে বাগে আনার মূল চাবিকাঠি। শরীরের এই নীরব সংকেতগুলিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল না করে সময়মতো চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়াই সুস্থ জীবনের একমাত্র পথ।