স্থায়ী ট্যাটুর দাগ আর লেজারের যন্ত্রণা অতীত! সূর্যের আলোয় মিলিয়ে যায় কোন আশ্চর্য কালি? রইল আসল রহস্য

শরীরে বাহারি ট্যাটু আঁকার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসেন একটাই কারণে—ত্বকে চিরস্থায়ী দাগ বসে যাওয়ার ভয়! আবার পরবর্তী সময়ে লেজার সার্জারি করিয়ে ট্যাটু তোলার খরচ ও অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা তো রয়েছেই। তবে এবার সেই সব ভয় ও ঝক্কি দূর করতে আধুনিক বিজ্ঞান নিয়ে এলো কল্পনাতীত এক সমাধান। এমন এক ‘জাদুকরী স্মার্ট কালি’ উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা, যা দিয়ে আঁকা ট্যাটু রাতে জ্বলজ্বল করলেও দিনের বেলা কড়া রোদে বেরোলেই চোখের নিমেষে মিলিয়ে যাবে!
কী এই ‘ফোটোট্যাট’ প্রযুক্তি?
আমেরিকার কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কার্সন ব্রুনস এবং তাঁর সহযোগী গবেষক দল এই যুগান্তকারী কালি উদ্ভাবন করেছেন। প্রযুক্তিগত পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘ফোটোট্যাট’ (PhotoTat)। এটি নিছক কোনো প্রথাগত ট্যাটুর কালি নয়, বরং আলোর ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গের ওপর ভিত্তি করে রূপ বদলাতে সক্ষম এক অত্যন্ত সংবেদনশীল স্মার্ট কালি।
ম্যাজিকের মতো গায়েব হয় কীভাবে?
সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই কালি দিয়ে করা ট্যাটু কিন্তু ত্বক থেকে পুরোপুরি ধুয়ে-মুছে যায় না, এটি কেবল চোখের দৃষ্টি থেকে নিজেকে নিখুঁতভাবে আড়াল করে নেয়!
-
ইউভি রশ্মিতে দৃশ্যমান: এই কালিতে ব্যবহৃত বিশেষ রঞ্জক বা ডাই একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গের (৩৬৫ ন্যানোমিটার) আলোর সংস্পর্শে এলে অতি দ্রুত আণবিক রূপ বদলে ফেলে। ফলে অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভি এলইডি লাইট ফেলার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ওপর লুকিয়ে থাকা রঙিন নকশাটি উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে।
-
সূর্যের আলোয় উধাও: সূর্যালোক হলো নানা ধরনের আলোর তরঙ্গের এক বিপুল সংমিশ্রণ। এতে দৃশ্যমান সাদা আলো ও উত্তাপ একসঙ্গে থাকে। ফলে সূর্যের কড়া আলোর সংস্পর্শে আসামাত্রই কালির আণবিক বাঁধন ভেঙে যায় এবং তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরোপুরি অদৃশ্য রূপ ধারণ করে।
ত্বকে কতটা নিরাপদ এবং স্থায়ী?
এই বিশেষ ডাইগুলি পিএমএমএ (PMMA) নামের অত্যন্ত নিরাপদ ও চিকিৎসা-অনুমোদিত এক ধরনের প্লাস্টিক কণার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খোলসের মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। গবেষকদের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ত্বকের ভেতর প্রায় ১.৪ বছর থেকে ২.২ বছর পর্যন্ত এই কালি সফলভাবে রূপ বদলানোর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। চাইলে সাধারণ স্থায়ী কালির সঙ্গেও এটিকে মিশিয়ে বিশেষ লুক দেওয়া সম্ভব, যা কেবল নির্দিষ্ট আলোতেই চোখে পড়বে।
আপাতত এই ফোটোট্যাট প্রযুক্তির বেগুনি রঙের কালিটি কঠোর মেডিক্যাল পরীক্ষার ছাড়পত্র পেয়ে বাজারে এসেছে। এর একটি ছোট বোতলের দাম রাখা হয়েছে প্রায় ১০০ ডলার। খুব শীঘ্রই আরও নানা রঙের স্মার্ট কালি নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন গবেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার কেবল ট্যাটুপ্রেমীদের জন্যই নয়, আগামী দিনে নির্দিষ্ট কিছু চিকিৎসাগত পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও নতুন বিপ্লব এনে দিতে পারে।