মাথা ব্যথায় ছিঁড়ে পড়ছে মাথা? সাধারণ যন্ত্রণা নাকি মাইগ্রেনের মরণফাঁদ— চিনে নিন গোপন ফারাক!

মাথা ব্যথা হওয়া অত্যন্ত পরিচিত একটি শারীরিক সমস্যা। তবে অনেকেই সামান্য অস্বস্তি হলেই ধরে নেন তিনি মাইগ্রেনের শিকার, আবার অনেকেই মাইগ্রেনের তীব্র যন্ত্রণাকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করে ভুল চিকিৎসার শিকার হন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মাথা ব্যথা এবং মাইগ্রেন সম্পূর্ণ আলাদা দুটি উপসর্গ; এদের কারণ, তীব্রতা এবং প্রভাবের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।
সাধারণ মাথা ব্যথা ঠিক কেমন?
সাধারণ মাথাব্যথার ক্ষেত্রে মাথার ওপর চারপাশ থেকে এক ধরনের ভারী চাপ বা টানটান অনুভূতি তৈরি হয়। এটি কপাল থেকে শুরু করে ঘাড়ের ওপরের অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
-
স্থায়িত্ব: সাধারণত ৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
-
কারণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক দুশ্চিন্তা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চোখের ওপর চাপ পড়ার কারণে এই ব্যথা হয়। বিশ্রাম নিলে বা হালকা ওষুধেই এটি দ্রুত সেরে যায়।
মাইগ্রেন: নিছক মাথা ব্যথা নয়, মারাত্মক স্নায়বিক যন্ত্রণা
মাইগ্রেনের আক্রমণ এতটাই তীব্র হয় যে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়।
-
ব্যথার ধরন ও এলাকা: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার যেকোনো একপাশে তীব্র দপদপানির মতো অনুভূত হয়।
-
অন্যান্য উপসর্গ: এই যন্ত্রণার সঙ্গে সঙ্গে গা-গোলানো, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, ঘাড়ে-কাঁধে প্রবল টান ধরা এবং চোখের পেছনে তীব্র ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে বদহজম ও গ্যাসের সমস্যাও মাথাচাড়া দেয়।
-
সংবেদনশীলতা: মাইগ্রেন চলাকালীন আলো, জোরালো শব্দ বা কোনো তীব্র গন্ধ একেবারেই সহ্য করা যায় না। আক্রান্ত ব্যক্তি অন্ধকার ও নিস্তব্ধ ঘরে শুয়ে থাকতেই স্বস্তি পান।
-
স্থায়িত্ব: জানলে চমকে উঠবেন, একটি মাইগ্রেন অ্যাটাক ৩ ঘণ্টা থেকে শুরু করে টানা ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে!
অতএব, যখনই মাথার যন্ত্রণা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে এবং আলো-শব্দে অস্বস্তি কিংবা বমি ভাব দেখা দেবে, তখন তাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।