“ঠাকুমা মারা যাওয়ার খবর শুনেও নাটক?” দিল্লি পুলিশের ভিডিও নিয়ে আগুনে ফুঁসছেন অভিজিত দীপকে! আসল সত্যি ফাঁস

ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকের হেফাজতে থাকার সময় তাঁর ঠাকুমার প্রয়াণের খবর দেওয়া নিয়ে দিল্লি পুলিশ এবং সিজেপি নেতৃত্বের সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করল। আটক থাকাকালীন তাঁকে পরিবারের শোকের খবর জানানো হয়নি এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে—পরিবারের এই মারাত্মক অভিযোগ খণ্ডন করতে রবিবার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু সেই ভিডিও সামনে আসতেই দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন স্বয়ং অভিজিত দীপকে।

ভিডিওতে মানবিক আচরণের দাবি করলেও পুলিশ আসলে আসল সত্যি আড়াল করেছে বলে দাবি যুবনেতার।

কী দেখা গিয়েছে দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত ভিডিওতে?

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (PRO) নেহা যাদব সাংবাদিক বৈঠকে যে ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরেন, তাতে দেখা যায়:

  • কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে দীপকেকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দিচ্ছেন এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় সম্পর্কে জানাচ্ছেন।

  • পুলিশ আধিকারিক তাঁকে প্রশ্ন করছেন, গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য বিমান, বাস বা অন্য কোনো গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে কি না।

  • সরকারি ফোন থেকে পরিবার বা বাবার সঙ্গে কথা বলানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়, কিন্তু ফুটেজে দেখা যায় দীপকে সেই প্রস্তাব নিতে অস্বীকার করছেন। পুলিশের দাবি, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁকে সব রকম সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই তা গ্রহণ করেননি।

“ভিডিওর আসল অংশ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে!” পাল্টা তোপ অভিজিতের

দিল্লি পুলিশের এই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে ওঠেন অভিজিত দীপকে। পুলিশের এই প্রচারকে ‘লোকদেখানো নৈতিকতার নাটক’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন:

“আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাওয়ার অংশটা ভিডিও থেকে কেটে বাদ দেওয়া হলো কেন? কেন দেখানো হলো না যে আমি কেবল দু’মিনিটের জন্য নিজের ফোন চেয়েছিলাম, যাতে গ্রামে থাকা ভাইয়ের নম্বর বের করে কী ঘটেছে জানতে পারি?”

গভীর রাতে মানসিক অত্যাচারের মারাত্মক অভিযোগ

অভিজিত আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে জানান, তাঁর বাবা-মা দুজনেই হৃদরোগী এবং শোকস্তব্ধ। তা সত্ত্বেও ভোর সাড়ে তিনটের সময় পুলিশ আধিকারিকরা এসে তাঁকে জোর করে বাবার কাছে ফোন করতে বলেন এবং বলতে বাধ্য করতে চান যে তাঁকে দীর্ঘদিনের জন্য জেলে পাঠানো হচ্ছে।

সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাও প্রেস ক্লাবে অভিযোগ করেন, এক যুবকের পারিবারিক শোকের সংবেদনশীল মুহূর্তকে রীতিমতো মাইক ও ক্যামেরা তাক করে নাটকীয় ভঙ্গিতে রেকর্ড করা চরম অমানবিকতা।

পুলিশের ভিডিও বনাম নেতার পাল্টা বয়ান—পারিবারিক শোকের আবহে দিল্লি পুলিশের এমন আচরণ এবং ভিডিও প্রকাশ নিয়ে এখন উত্তাল গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *