“আইন কেবল সাধারণ মানুষের জন্য?” সন্ধ্যার অন্ধকারে মহিলা আন্দোলনকারীদের গাড়িতে তুলল দিল্লি পুলিশ! তীব্র নিন্দার ঝড়

দেশের রাজধানীতে ফের একবার পুলিশের ভূমিকা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে উঠল একরাশ গুরুতর প্রশ্ন। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন ভারতীয় ফৌজদারি কার্যবিধির সুস্পষ্ট নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সূর্যাস্তের পর ২২ জন মহিলা এসএফআই (SFI) কর্মীকে আটক করার মারাত্মক অভিযোগ উঠল দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে।
নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর কোনো মহিলাকে পুলিশি হেফাজতে বা থানায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে আইনি নিষেধাজ্ঞা ও রক্ষাকবচ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ছাত্র সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে?
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, দিল্লির রাজপথে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে একাধিক পড়ুয়াকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ:
-
নিয়ম লঙ্ঘনের স্পষ্ট ছবি: সূর্যাস্তের অনেক পরে অন্ধকার নেমে আসার পরও ২২ জন মহিলা কর্মীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় এবং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
-
আইনি নির্দেশিকা লঙ্ঘন: সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় এবং দেশের আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতি ও ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমতি ছাড়া সূর্যাস্তের পর এবং সূর্যোদয়ের আগে কোনো মহিলাকে আটক বা গ্রেফতার করা যায় না। আন্দোলনকারীদের দাবি, সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করেনি পুলিশ।
-
মহিলা কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ: থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের আইনি সহায়তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ তুলেছে ছাত্র সংগঠনটি।
প্রতিবাদের আগুন ও পুলিশের সাফাই
এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের প্রতিবাদে রাতেই দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে এসএফআই ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি মহিলাদের মৌলিক সুরক্ষা ও আইনি অধিকারকেও পদদলিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন মেনেই পুরো বিষয়টি পরিচালনা করা হয়েছে।
আইন যেখানে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার ঢাল, সেখানে রক্ষকই যদি নির্দেশিকা ভঙ্গ করে মহিলাদের আটক করে—এমন প্রশ্নেই এখন তোলপাড় রাজধানীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।