ডারবানে ১৯০ রানের তাণ্ডব! বিরাট কোহলির ১০ বছরের পুরনো রেকর্ড চুরমার করলেন অজি ওপেনার ম্যাট রেনশ

দক্ষিণ আফ্রিকার পেস স্বর্গে প্রোটিয়া বোলারদের ক্লাব স্তরের মানে নামিয়ে এনে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস উপহার দিলেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি ওপেনার ম্যাট রেনশ। ডারবান টেস্টে তাঁর ১৯০ রানের নিখুঁত, ধৈর্যশীল অথচ আক্রমণাত্মক ইনিংস কেবল অস্ট্রেলিয়াকেই চালকের আসনে বসায়নি, একই সঙ্গে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের মহাতারকা বিরাট কোহলির এক দশক ধরে টিকে থাকা এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
প্রোটিয়াদের মাটিতে উপমহাদেশের বাইরে কোনো এশিয়ান কিংবা বিদেশি ব্যাটার হিসেবে কোহলির গড়া সেই স্মরণীয় কীর্তি এবার নিজের নামে লিখে নিলেন এই অজি তারকা।
কোহলির কোন রেকর্ড ভাঙলেন রেনশ?
২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গিয়ে টেস্টে প্রতিপক্ষ ব্যাটার হিসেবে রানের যে অনন্য মাইলফলক ও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের নজির গড়েছিলেন তৎকালীন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, গত ১০ বছর ধরে তা অক্ষত ছিল। ডারবানের গতি ও বাউন্সের চেনা ফাঁদে যখন বড় বড় ব্যাটাররা দিশেহারা হয়েছেন, তখন একা কুম্ভ হয়ে লড়েছিলেন বিরাট।
সেই রেকর্ডকে পেছনে ফেলে ডারবানের বাইশ গজে প্রোটিয়াদের ধারালো পেস আক্রমণকে রীতিমতো সাধারণ মানে নামিয়ে এনে ১৯০ রানের অনবদ্য মহাকাব্যিক ইনিংস খেললেন রেনশ। তাঁর এই ইনিংসের সুবাদেই দীর্ঘ এক দশক পর বিরাটের সেই ঐতিহাসিক নজির হাতছাড়া হলো।
প্রোটিয়াদের ডেরায় রেনশ-ঝড়
ম্যাচের শুরু থেকেই অত্যন্ত সংযত ও আক্রমণাত্মক মেজাজের দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখেন রেনশ:
-
ধৈর্যের পরীক্ষা: রাবাডা ও এনগিডিদের মতো বিশ্বমানের পেসারদের আগুনের গোলার সামনে প্রথম সেশনে জমাট রক্ষণ উপহার দেন।
-
অনবদ্য বাউন্ডারির ফুলঝুরি: ক্রিজে থিতু হওয়ার পরেই হাত খোলেন তিনি। মাঠের চারদিকে চোখধাঁধানো ড্রাইভে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন।
-
ম্যারাথন ইনিংস: অল্পের জন্য দ্বিশতরান হাতছাড়া হলেও তাঁর ১৯০ রানের এই লড়াকু ইনিংস অজিদের প্রথম ইনিংসে বিশাল রানের পাহাড়ে পৌঁছে দিয়েছে।
টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তনের সেরা জবাব
গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের পাহাড় গড়ে ফের টেস্ট একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাট রেনশ। আর সুযোগ পেয়েই বিদেশের মাটিতে এমন অতিমানবীয় ইনিংস খেলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন—লাল বলের ক্রিকেটে লম্বা রেসের ঘোড়া হয়েই ফিরেছেন তিনি।
কোহলির মতো কিংবদন্তির রেকর্ড ভেঙে রেনশর এই অবিশ্বাস্য কীর্তিতে এখন প্রশংসায় পঞ্চমুখ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে তামাম ক্রিকেট ভক্তরা। ডারবানের টেস্ট যে তাঁর এই ইনিংসের হাত ধরে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিল, তা বলাই বাহুল্য।