রাজধানীতে হঠাৎ ১৩৩ ধারা জারি! ককরোচ নেতাদের আটকের আসল কারণ জানিয়ে বোমা ফাটাল দিল্লি পুলিশ

জাতীয় রাজধানী দিল্লির জনপথে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অবস্থান বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-সহ শীর্ষ নেতাদের নাটকীয় আটক ঘিরে চলা বিতর্কে এবার মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ। জনপথে ধর্নার কোনও পূর্ব অনুমতি না থাকা এবং অতীতে এই সংগঠনের আন্দোলনে ব্যাপক হিংসা, আগুন লাগানো ও পাথর ছোঁড়ার মারাত্মক ইতিহাস থাকার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট জানালেন ডিসিপি নেহা যাদব।

পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমার মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা ও মানবিক গাফিলতির অভিযোগের জবাবেও সমস্ত তথ্য তুলে ধরেছে পুলিশ প্রশাসন।

কেন জনপথে আন্দোলনের অনুমতি মেলেনি?

দিল্লি পুলিশের ডিসিপি নেহা যাদব এক সাংবাদিক বিবৃতিতে জানান, জনপথের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় বিক্ষোভের জন্য নিয়মমাফিক কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তিনি কড়া ভাষায় যুক্তি দিয়ে বলেন:

  • অতীতে ব্যাপক হিংসার ইতিহাস: এই গোষ্ঠী এর আগে যেসব কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল, সেখানে অবাধে পাথর ছোঁড়া, গাড়িতে আগুন লাগানো এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনা ঘটেছিল।

  • আইন অমান্য করার রেকর্ড: অতীতে কোনও আইনি নির্দেশিকা বা বিধিনিষেধ তারা মানেনি। ফলে সাধারণ নাগরিকদের জানমাল ও রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এবার কোনও ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।

  • ১৩৩ ধারা জারি: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৩৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যার আওতায় অনুমতিহীন সমস্ত রকম বিক্ষোভ ও জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ঠাকুমার মৃত্যু ও পুলিশের মানবিক ভূমিকা: তথ্য প্রকাশ

আটকের সময়েই মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলিতে অভিজিৎ দিপকের ৮৫ বছর বয়সি ঠাকুমা সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দিপকের আকস্মিক প্রয়াণ ঘটে। পরিবার ও দলটির একাংশের ক্ষোভের জবাবে ডিসিপি নেহা যাদব জানান:

  • ঠাকুমার মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ আধিকারিকরা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দিপকের কাছে যান এবং এই দুঃসংবাদ জানান।

  • শেষকৃত্যে পৌঁছানোর জন্য তাৎক্ষণিক বিমানের টিকিট বুকিং, বাড়িতে ফোনে কথা বলা এবং যাবতীয় সরকারি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

  • তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান কি না, তাও বারবার জানতে চাওয়া হয়। তবে দিপকে নিজেই পুলিশের সমস্ত সহায়তার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

জামিন পেয়েই কেন্দ্র ও কমিশনকে কড়া চ্যালেঞ্জ

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ার পরই রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠক করে আক্রমণাত্মক অবস্থান বজায় রেখেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। দলটির সুপ্রিমো অভিজিৎ দিপকে সমাজমাধ্যমে স্পষ্ট লিখেছেন, “আমরা এমন কোনও মুচলেকায় সই করিনি যেখানে লেখা আছে যে আর রাস্তায় নামব না। আমাদের লড়াই চলবে।” অন্যদিকে, সিজেপি কর্মী আশুতোষ রাঙ্কা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দিল্লি পুলিশের এমন কড়া আত্মপক্ষ সমর্থন ও আন্দোলনকারীদের পাল্টা যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রমাণ করে দিল, নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তাপ সহজে কমছে না।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *