সামান্য জ্বর-সর্দিতেই অ্যান্টিবায়োটিক গিলছেন? কেন্দ্রের কড়া নির্দেশে ব্যান হচ্ছে একগুচ্ছ ওষুধ, জানুন তালিকা!

হালকা জ্বর, গা-হাত-পা ব্যথা কিংবা সর্দি-কাশি হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু নিজের অজান্তে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনা এই প্রবণতা বন্ধ করতে এবার কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সাধারণ মানুষ ও ফার্মাসিস্টদের যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের রাশ টানতে দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে কঠোর নির্দেশিকা।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে মানবদেহে তৈরি হচ্ছে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (AMR)। সহজ কথায়, শরীরের জীবাণুগুলি ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, যার ফলে ভবিষ্যতে গুরুতর অসুখে কোনও সাধারণ ওষুধ আর কাজ করছে না। এই মারাত্মক সংকট রুখতেই একাধিক নির্দিষ্ট ওষুধের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি আরোপ করছে কেন্দ্র।
কোন ধরনের ওষুধ নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে?
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতর ও ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (DCGI) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মূলত একাধিক রাসায়নিকের সংমিশ্রণে তৈরি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন (FDC) ওষুধগুলির ওপর কোপ পড়ছে:
-
অবৈজ্ঞানিক কম্বিনেশন ব্যান: যেসব অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় প্যারাসিটামল বা সাধারণ ব্যথানাশক মিশিয়ে বিক্রি করা হয়, যেগুলির কোনও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা নেই, সেই ওষুধগুলিকে বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ: অতিপ্রয়োজনীয় এবং শক্তিশালী রিজার্ভ ক্যাটাগরির অ্যান্টিবায়োটিকগুলিকে সস্তা ও দৈনন্দিন চিকিৎসার আওতা থেকে বাইরে রাখতে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হচ্ছে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করলেই কড়া শাস্তি
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওষুধের দোকানদার বা ফার্মাসিস্টদের জন্য নিয়ম এখন অনেক বেশি কঠোর:
-
লাল দাগের (Red Line) ওষুধে কড়াকড়ি: প্যাকেটের গায়ে লাল দাগ থাকা শিডিউল-এইচ (Schedule H) ও শিডিউল-এইচ১ (Schedule H1) তালিকাভুক্ত কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নথিভুক্ত চিকিৎসকের বৈধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না।
-
বিক্রির হিসেব রাখা বাধ্যতামূলক: কোন রোগীকে কত পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলো, প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী—তার সম্পূর্ণ খতিয়ান দোকানে সংরক্ষণ করতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
চিকিৎসকদের জন্যও বিশেষ গাইডলাইন
কেবল সাধারণ মানুষ বা দোকানদার নয়, চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও যৌক্তিক প্রেসক্রিপশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল ফিভার বা সাধারণ ঋতু পরিবর্তনের সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিক না লিখে শুধুমাত্র লক্ষণভিত্তিক (Symptomatic) চিকিৎসার ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা বা কালচার টেস্ট ছাড়া উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক লেখা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজের ইচ্ছামতো বা পাশের ওষুধের দোকানের কথায় অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শুরু করা কিংবা মাঝপথে বন্ধ করা জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রায় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।